পশ্চিম তীরে গুলিতে ইসরায়েলি দুই সেনা নিহত, ’৬৭ সালের মতো অভিযানের হুমকি নেতানিয়াহুর

· Prothom Alo

হামলার দায় স্বীকার না করলেও এর প্রশংসা করেছে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাস। সংগঠনটি এ হামলাকে ‘বীরত্বপূর্ণ অভিযান’ বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে সমর্থকদের আরও হামলা চালানোর আহ্বান জানিয়েছে।

ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনে আজ শুক্রবার বন্দুকধারীর গুলিতে ইসরায়েলি দুই সেনা নিহত হয়েছে। তারা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী ব্রিগেডের সদস্য ছিলেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে। ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে দুই হামলাকারীও নিহত হয়েছেন।

Visit sweetbonanza.qpon for more information.

টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, নিহত দুই সেনা হলেন স্টাফ সার্জেন্ট রন ইয়োনাতান রয়টম্যান ও সার্জেন্ট ইউভাল শাই স্ভিলেম। ওই গুলির ঘটনায় একই ব্যাটালিয়নের আরও তিন সেনা সামান্য আহত হয়েছেন। পোস্টে আরও বলা হয়, আহত সেনাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বার্ত সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীদের হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হন। এর পরিপ্রেক্ষিতে অধিকৃত পশ্চিম তীরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, এটা এমন বড় অভিযান হবে, যা আগে দেখা যায়নি। নেতানিয়াহু বলেছেন, অভিযানের প্রথম ধাপে বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে। এরপর বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানো হবে। ধ্বংস করা হবে ‘সন্ত্রাসীদের অবকাঠামো’।

আগামী মঙ্গলবার ইসরায়েলে জাতীয় নির্বাচন। এর মাত্র কয়েক দিন আগে এই হামলার ঘটনা ঘটল।

এদিকে হামলার দায় স্বীকার না করলেও এর প্রশংসা করেছে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাস। সংগঠনটি এ হামলাকে ‘বীরত্বপূর্ণ অভিযান’ বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে সমর্থকদের আরও হামলা চালানোর আহ্বান জানিয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির হেবরনভিত্তিক একজন আলোকচিত্রী শুক্রবার সকালে অন্য একটি দায়িত্ব পালনের জন্য যাচ্ছিলেন। পথে তিনি হেবরন শহরের কাছে ফারশ আল-হাওয়া তল্লাশিচৌকিতে বন্দুকযুদ্ধ শুরু হতে দেখেন। সেখানে ইসরায়েলি সেনাদের সঙ্গে দুই ফিলিস্তিনি ব্যক্তির বন্দুকযুদ্ধ হয়। ওই দুই ফিলিস্তিনির কাছে একটি পিস্তল ও একটি স্বয়ংক্রিয় রাইফেল ছিল।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

একপর্যায়ে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে দুই হামলাকারী নিহত হন। এএফপির ওই সাংবাদিক একটি পেট্রলপাম্পের পাশে তাঁদের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। আশপাশে ইসরায়েলি সেনারা টহল দিচ্ছিলেন।

পরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, হেবরনের কাছে ‘জুডিয়া জংশন’ এলাকায় লড়াইয়ে তাদের দুই সেনা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও তিনজন। এর আগে উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছিলেন, হামলায় পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। হামলার সময় ইসরায়েলি সেনাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, সেনারা ‘সম্ভাব্য একটি বড় হামলা ঠেকাতে পেরেছেন’।

এরপর পশ্চিম তীরে অবরুদ্ধ অবস্থা জারির নির্দেশ দেন নেতানিয়াহু। তিনি আরও বলেন, ‘সন্ত্রাসী তৎপরতা ঠেকাতে সেনারা অভিযান জোরদার করেছেন। একই সঙ্গে ব্যাপক ধরপাকড় চালাচ্ছেন।’ পরে হেবরন সফর করেন নেতানিয়াহু। সেখানে তিনি বলেন, তিনি ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ পশ্চিম তীরে অত্যন্ত বড় পরিসরে সামরিক অভিযান চালানোর কথা বিবেচনা করছেন। নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) অত্যন্ত বড় একটি অভিযান চালানোর কথা বিবেচনা করছি। ১৯৬৭ সালের পর এমন অভিযান আর চালানো হয়নি।’

পশ্চিম তীরের হেবরনে গুলিতে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ। পাশে আইনশঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।ফিলিস্তিন, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় প্রথমবারের মতো ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর দখল করে ইসরায়েল।

নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘আইডিএফ এ অভিযান চালাতে প্রস্তুত। আমরা এর সময় নির্ধারণ করব। তবে অভিযানটি হতে যাচ্ছে।’ তিনি জানান, প্রথম অভিযানে ইসরায়েলি বাহিনী সেই এলাকায় প্রবেশ করবে, যেখান থেকে হামলাকারীরা এসেছিলেন। সেখানকার বাসিন্দাদের সরিয়ে দেওয়া হবে। এরপর বাড়ি বাড়ি অভিযান চালিয়ে ‘সন্ত্রাসীদের অবকাঠামো’ ধ্বংস করা হবে।

ইসরায়েলের নির্বাচনে ‘কিংমেকার’ কে এই আব্বাস, নেতানিয়াহুকেও সরিয়েছিলেন তিনি

নেতানিয়াহু বলেন, এ অভিযানে সেনাবাহিনী আগের একটি কৌশল অনুসরণ করবে। পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলের শরণার্থীশিবিরগুলোতে এই কৌশল ব্যবহার করা হয়েছিল।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ওই শরণার্থীশিবিরগুলোতে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ওই অভিযানের কারণে হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। এদিকে নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার নেতানিয়াহু তাঁর লিকুদ দলের সব রাজনৈতিক কর্মসূচি বাতিল করার নির্দেশ দেন।

‘ঠিক গাজার মতো’ অভিযান চালাতে হবে: স্মোতরিচ

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ‘হেবরন এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী আক্রমণাত্মক অভিযান’ শুরু করেছে। সেনারা হামলায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের এবং অন্যদের বাড়িতে অভিযান চালাচ্ছেন।

নেতানিয়াহুর ঘোষণার আগেই পশ্চিম তীরে নতুন সামরিক অভিযান চালানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোতরিচ। তিনি বলেছিলেন, অভিযান চালাতে হবে ‘ঠিক গাজার মতো’। তিনি বলেন, ‘সর্বাত্মক সামরিক অভিযান চালানো ছাড়া আর কোনো পথ নেই। এ অভিযানের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ভেঙে দিতে হবে, অস্ত্র সংগ্রহ করতে হবে এবং সন্ত্রাসীদের নির্মূল করতে হবে।’

স্মোতরিচ আরও বলেন,  হামলাস্থলের আশপাশে থাকা বিস্তৃত সারির আরব স্থাপনা অবিলম্বে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

ইরানে একা ইসরায়েল আসলে কী করতে পারবে, তেহরানের সক্ষমতা কোথায়

ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ও কট্টর ডানপন্থী নেতা ইতামার বেন-গভিরও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বেন-গভির বলেন, রামাল্লাভিত্তিক ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ‘ভেঙে দিতে হবে এবং নিরস্ত্র করতে হবে। তাদের সন্ত্রাসী অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস করতে হবে।’

তবে শুক্রবারের হামলার সঙ্গে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে এই কর্তৃপক্ষ।

হামলার প্রশংসা হামাসের

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছিল হামাস। ওই হামলার পরই গাজায় যুদ্ধ শুরু হয়। শুক্রবার হেবরনে গুলির ঘটনার প্রশংসা করেছে হামাস। একই সঙ্গে নিহত হামলাকারীদের জন্য শোক প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

গাজাভিত্তিক হামাসের সঙ্গে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ক্ষমতাসীন ফাতাহ গোষ্ঠীর বিরোধ রয়েছে। হামাস শুক্রবারের হামলাকে ‘আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে চলমান অপরাধ ও নৃশংস হামলার স্বাভাবিক ও বৈধ প্রতিক্রিয়া’ বলে উল্লেখ করেছে। সংগঠনটি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেছে, ‘পুরোপুরি সংগঠিত হোন। আগ্রাসনকারীদের পায়ের নিচের মাটিকে আগুনে পরিণত করুন।’

এদিকে পশ্চিম তীরে উত্তেজনা যখন তীব্র আকার ধারণ করেছে, তখনই এ হামলার ঘটনা ঘটল। ফিলিস্তিনি জলপাইচাষিদের ওপর উগ্রপন্থী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলাও এই উত্তেজনার একটি কারণ।

ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের ভিত্তিতে এএফপি একটি হিসাব তৈরি করেছে। সেই হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ১ হাজার ১১৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

অন্যদিকে ইসরায়েলের দাবি, একই সময়ে অন্তত ৪৯জন ইসরায়েলি নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনিদের হামলা কিংবা ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সময় তাঁরা নিহত হন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা রয়েছেন।

ইরান কি হরমুজ প্রণালিতে গোপনে টোল আদায় করছে

Read full story at source