ব্যবসায়ীসহ বিত্তবান পুরুষদের প্রেমের জালে ফেলে করা হতো ব্ল্যাকমেল

· Prothom Alo

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়। সেই সূত্রে ধীরে ধীরে গড়ে তোলা হতো মিথ্যা প্রেমের সম্পর্ক। এরপর কৌশলে ডেকে নেওয়া হতো নির্ধারিত বাসা বা হোটেলকক্ষে। সেখানে অপেক্ষা করতেন চক্রের অন্য সদস্যরা। শুরু হতো ভয়ভীতি দেখানো, জিম্মি করা ও শারীরিক নির্যাতন। এরপর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সেগুলো প্রকাশের হুমকি দিয়ে আদায় করা হতো টাকা।

Visit afrikasportnews.co.za for more information.

এভাবে ‘হানিট্র্যাপ’ বা ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেল করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ওয়ারী। গতকাল শনিবার রাজধানীর তুরাগ থানার একটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। আজ রোববার ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আবদুর রহমান (৩৮), প্রীতম বিশ্বাস ওরফে অনিক শেখ (৩০), অর্থজীৎ ভক্ত ওরফে সিদ্ধার্থ (২০), সাবরিন কবির প্রেমা ওরফে নেহা (২২) ও সাদিয়া ইয়াসমিন ওরফে মাহি (২১)। পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে আবদুর রহমান চক্রটির মূল হোতা। তাঁদের কাছ থেকে পাঁচটি মুঠোফোন, তিনটি ফাঁকা চেক ও একটি টর্চার বেল্ট উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিবি ওয়ারী বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চক্রটির নারী সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয়ে মধ্যবয়সী, বয়স্ক ব্যবসায়ীসহ বিত্তবান পুরুষদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। এরপর কৌশলে তাঁদের নির্ধারিত বাসা বা হোটেলকক্ষে ডেকে নেওয়া হতো। সেখানে চক্রটির পুরুষ সদস্যরা তাঁদের জিম্মি করে ভয়ভীতি দেখাতেন এবং শারীরিক নির্যাতন করতেন। এরপর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও প্রকাশের হুমকি দিয়ে টাকা আদায় করা হতো। একবার টাকা দেওয়ার পরও রেহাই মিলত না।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ব্ল্যাকমেল করে আবারও টাকা দাবি করতেন চক্রের সদস্যরা।

পুলিশের ভাষ্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে তাঁরা ঘন ঘন বাসা ও আস্তানা পরিবর্তন করতেন। ব্যবহার করতেন ভুয়া নামে নিবন্ধিত সিম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি। প্রতারণা বা ব্ল্যাকমেলের শিকার হলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে বলেছে সংস্থাটি।

Read full story at source