পশুর নদে তেলবাহী ট্যাঙ্কারের ধাক্কায় কয়লাবোঝাই কার্গো জাহাজডুবি, ১০ জন উদ্ধার

· Prothom Alo

সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের হারবাড়িয়া-সংলগ্ন পশুর নদে তেলবাহী একটি ট্যাঙ্কারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে কয়লাবোঝাই একটি কার্গো জাহাজ ডুবে গেছে। গতকাল সোমবার রাতে নদের সুন্দরীর কোঠা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে কেউ হতাহত হননি বলে জানা গেছে।

Visit playerbros.org for more information.

ডুবে যাওয়া জাহাজটির নাম এমভি ফুলবাড়ী। এতে ১ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন কয়লা ছিল। আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত জাহাজটি উদ্ধারে কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি।

মোংলা বন্দর সূত্রে জানা গেছে, হিরণ পয়েন্টে অবস্থানরত বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ এমভি ইয়াস জুপিটার থেকে কয়লা নিয়ে ঢাকার বাদামতলির উদ্দেশে যাচ্ছিল এমভি ফুলবাড়ী। পথে পশুর চ্যানেলের সুন্দরীর কোঠা এলাকায় পৌঁছালে তেলবাহী ট্যাঙ্কার এমটি জান্নাতুল ফেরদৌসের সঙ্গে ধাক্কা লেগে এমভি ফুলবাড়ীর তলা ফেটে যায়।

ফুলবাড়ী জাহাজের সুকানি মো. সাকিব কাজী প্রথম আলোকে বলেন, ‘হিরণ পয়েন্ট থেকে লোড (কয়লাবোঝাই) করে মোংলার দিকে আসতেছিলাম। তখন রাত আনুমানিক সাড়ে নয়টা। জান্নাতুল ফেরদৌস নামের একটি বাঙ্কার (ট্যাঙ্কার) ডাউনে নামতেছিল। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওই জাহাজের সঙ্গে আমার জাহাজের সংঘর্ষ হয়। এতে আমার জাহাজের ডেক ফেটে যায় এবং পানি ঢুকতে শুরু করে।’

সুকানি জানান, জাহাজটি কিনারের দিকে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু এর মধ্যেই সেটি ডুবতে শুরু করে। তখন সবাই লাইফ জ্যাকেট পরে পানিতে ঝাঁপ দেন এবং সাঁতরে অন্য একটি জাহাজে ওঠেন।

১০ জন উদ্ধার
ফুলবাড়ী জাহাজে ৯ জন ছিলেন। জান্নাতুল ফেরদৌস ট্যাঙ্কারের লস্কর মো. নয়ন শেখসহ মোট ১০ জনকে রানীয়া-১৩ নামের একটি জাহাজ উদ্ধার করে মোংলায় নিয়ে আসে। তাঁরা এখন বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার অ্যাসোসিয়েশনের মোংলা শাখার কার্যালয়ে আছেন।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, কয়লা বোঝাই করে জাহাজটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। ডুবে যাওয়া জাহাজ এখনো উদ্ধার করা হয়নি। তবে জাহাজটি নদীর কিনারার দিকে থাকায় অন্য নৌযান চলাচলে সমস্যা হচ্ছে না।

নয়ন শেখ, ট্যাঙ্কার জান্নাতুল ফেরদৌসের লস্করআমি সামনে এসে লাইট দিলে সিগন্যাল দিতে দিতে ধাক্কা লেগে যায়। তখন আমি আমাদের জাহাজ থেকে ছিটকে ওই জাহাজে (ফুলবাড়ী) চলে যাই।

নোঙরের সমস্যার কারণে ট্যাঙ্কারটি সরে মূল চ্যানেলে চলে আসে বলে জানান জান্নাতুল ফেরদৌসের লস্কর নয়ন শেখ। তিনি বলেন, ‘আমি সামনে এসে লাইট দিলে সিগন্যাল দিতে দিতে ধাক্কা লেগে যায়। তখন আমি আমাদের জাহাজ থেকে ছিটকে ওই জাহাজে (ফুলবাড়ী) চলে যাই।’

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমোডর মো. শফিকুল ইসলাম সরকার প্রথম আলোকে বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত কার্গো জাহাজটি মূল চ্যানেলের বাইরে ডুবেছে। বন্দর চ্যানেল সম্পূর্ণ নিরাপদ আছে এবং নৌযান চলাচলও স্বাভাবিক। জাহাজটি দ্রুত উদ্ধারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে মালিকপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Read full story at source