রাগ নিয়ন্ত্রণ করবেন কীভাবে

· Prothom Alo

রাগ মানুষের স্বাভাবিক আবেগ। কিন্তু এর কারণে অনেক সময় সম্পর্ক নষ্ট হয়, আমরা ভুল সিদ্ধান্ত নিই কিংবা এমন কিছু কথা বলে ফেলি, যার জন্য পরে অনুশোচনা করতে হয়। আমরা জানি, অতিরিক্ত রাগের পরিণতি ভালো নয়। তবু চাইলেই এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। তবে রাগকে শুধু সমস্যা হিসেবে না দেখে অন্যভাবেও ভাবা যায়।

মানুষের জীবন থেকে রাগ পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। আনন্দ, দুঃখ ও ভয় যেমন মানুষের স্বাভাবিক অনুভূতি, রাগও তেমন। সঠিকভাবে বুঝতে পারলে এই আবেগ আমাদের জন্য ইতিবাচক হতে পারে।

Visit afsport.lat for more information.

রাগকে নিজের ভেতরের একটি সতর্কসংকেত হিসেবে ভাবা যায়। যেমন পথ চলতে গিয়ে জিপিএস ভুল পথ সম্পর্কে সতর্ক করে, তেমনি রাগও আমাদের কোনো সমস্যা বা অসন্তুষ্টির কথা জানায়। রাগের সময় নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে—কেন রাগ হচ্ছে? কোন বিষয়টি আমাকে কষ্ট দিচ্ছে? পরিস্থিতির কী পরিবর্তন প্রয়োজন? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজলে আবেগের বশে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।

রাগকে বুঝতে হলে দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—মননশীলতা ও সহমর্মিতা।

বিচার না করে অনুভূতি বুঝুন

মাইন্ডফুলনেস হলো বর্তমান মুহূর্তে নিজের চিন্তা, অনুভূতি ও চারপাশের পরিস্থিতির প্রতি সচেতনভাবে মনোযোগ দেওয়া। কোনো অনুভূতিকে ভালো বা মন্দ বলে বিচার না করে সেটি বোঝার চেষ্টা করাই এর মূল কথা।

মননশীলতা চর্চার পথিকৃৎ জন কাবাট–জিনের মতে, ইচ্ছাকৃতভাবে বর্তমান মুহূর্তে কোনো বিচার না করে মনোযোগ দেওয়াই মাইন্ডফুলনেস।

রাগের সময় মনে কষ্ট, অপমানবোধ, ভয় কিংবা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। এসব অনুভূতি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে আমরা অনেক সময় অন্যকে দোষারোপ করি। ফলে পরিস্থিতির অন্য দিকগুলো দেখার ক্ষমতা কমে যায়। নিজের ধারণাকেই সঠিক মনে হয়।

ধরা যাক, অফিসে কোনো সহকর্মী আপনার কাজের সমালোচনা করলেন। সঙ্গে সঙ্গে রাগ হতে পারে। মনে হতে পারে, তিনি ইচ্ছা করেই আপনাকে ছোট করেছেন। কিন্তু একটু থেমে ভাবলে বোঝা যেতে পারে, কাজের ভুল ধরিয়ে দেওয়াই হয়তো তাঁর উদ্দেশ্য ছিল।

তাই রাগ হলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে নিজের অনুভূতিগুলো খেয়াল করুন। কেন রাগ হচ্ছে, মনে কী চিন্তা আসছে, শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে—এসব বোঝার চেষ্টা করুন।

নিয়মিত এই চর্চা করলে রাগ বাড়তে থাকার বিষয়টি দ্রুত বুঝতে পারবেন। ফলে রাগের বশে কাউকে কটু কথা বলা বা আঘাত করার আগেই নিজেকে সামলে নেওয়া সহজ হবে।

পুরুষেরা প্রকাশ্যে কাঁদতে কেন সংকোচ বোধ করেন

সহমর্মিতার চর্চা করুন

রাগকে ইতিবাচকভাবে বদলাতে সহমর্মিতার চর্চাও জরুরি। সহমর্মিতা হলো অন্যের অনুভূতি ও প্রয়োজন বোঝার চেষ্টা করা। কেউ কষ্টে থাকলে তার কষ্ট উপলব্ধি করা এবং তা কমানোর জন্য এগিয়ে আসাই সহমর্মিতার পরিচয়। এটি মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া ভয়, অবিশ্বাস ও দূরত্ব কমায়। অন্যদিকে নিজের প্রতি সহমর্মিতা থাকলে নিজের রাগ, ভয়, ঈর্ষা কিংবা হতাশার মতো অনুভূতিগুলোও সহজে মেনে নেওয়া যায়।

কেউ আপনার সঙ্গে খারাপ আচরণ করলে মনে রাখুন, প্রত্যেক মানুষ নিজের সামর্থ্য, অভিজ্ঞতা, পরিস্থিতি ও সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে কাজ করেন। অন্যের আচরণ আপনার কাছে ভুল মনে হলেও এর পেছনে কোনো কারণ থাকতে পারে।

ধরা যাক, কোনো বন্ধু আপনার কথা রাখেননি। এতে আপনি কষ্ট পেতে পারেন। কিন্তু তাঁকে দোষারোপ করার আগে বোঝার চেষ্টা করুন, কেন তিনি এমন করেছেন। হয়তো তাঁর নিজেরও কোনো সমস্যা বা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

এর অর্থ এই নয় যে অন্যের সব ভুল মেনে নিতে হবে। বরং কাউকে দোষারোপ করার আগে তাঁর অবস্থান বোঝার চেষ্টা করতে হবে। প্রয়োজনে নিজের অসন্তুষ্টির কথাও শান্তভাবে জানাতে হবে।

রাগ মানুষের স্বাভাবিক আবেগ। তাই রাগ হচ্ছে বলে নিজেকে খারাপ ভাবার প্রয়োজন নেই। এর কারণ বোঝা, নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং অন্যের অবস্থান উপলব্ধি করার চর্চা করতে হবে। মনে রাখতে হবে, রাগকে জয় করার অর্থ এটি পুরোপুরি দূর করা নয়; বরং রাগের মধ্যেও নিজের চিন্তা ও আচরণের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে শেখা।

লেখা: মোশে র‍্যাটসন/সাইকোলজি টুডে

Read full story at source