আরএসএসের ছাত্রসংগঠনের ব্যানারে ‘কটু’ কথা লেখার অভিযোগে প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী বহিষ্কৃত
· Prothom Alo

ভারতের হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) ছাত্রসংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) একটি ব্যানারের ওপর ‘কটু’ কথা লেখার অভিযোগে কলকাতার প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত দুই ছাত্রীর এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভবিষ্যতে যেকোনো ডিগ্রি কোর্সে ভর্তির ক্ষেত্রেও চিরতরে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ওই ব্যানারে স্বামী বিবেকানন্দের ছবি ছিল।
Visit palladian.co.za for more information.
বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া প্রাচীন এই প্রতিষ্ঠান ভারতের একটি প্রধান উদারমনস্ক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত। ২০০ বছরের বেশি পুরোনো এই প্রতিষ্ঠান থেকে দক্ষিণ এশিয়া তো বটেই, বিশ্বের খ্যাতনামা অনেক মানুষ পাস করে বেরিয়েছেন।
জানা গেছে, শাস্তিপ্রাপ্ত দুই ছাত্রীর একজন স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত স্নাতকোত্তর ছাত্রী এবং অন্যজন সদ্য স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও পোস্ট-স্টুডেন্টশিপের বিভিন্ন শিক্ষাসংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ঘটনাটি ঘটে গত ১৩ অক্টোবর। পরদিনই এবিভিপির পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ঘটনাটি খতিয়ে দেখে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশ জমার নির্দেশ দিয়ে পাঁচ সদস্যের একটি অধ্যাপক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
২৮ অক্টোবর প্রথম বৈঠকের পর ৩ নভেম্বর কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয় এবং ৫ নভেম্বর কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর দুই ছাত্রীর কাছে বহিষ্কারের চিঠি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সিসিটিভি ফুটেজ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য শোনার পর কমিটি ‘কটু’ কথা লেখার সত্যতা যাচাই করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দেবজ্যোতি কোনার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্সি ঐতিহ্যগতভাবে সুশীল একাডেমিক চর্চা ও বিতর্কের ঐতিহ্য বহন করে। এই আদর্শ বজায় রাখার কারণে কোনো চিন্তাবিদ, মতাদর্শ বা সংগঠনকে উদ্দেশ্য করে কোনো গালিগালাজ বরদাশত করা হবে না।
এই কঠোর শাস্তি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এসএফআই, আরএসএফ, আইসা ও এআইডিএসও যৌথ বিবৃতিতে এ ধরনের ভাঙচুর বা বিকৃতির নিন্দা করলেও দুই ছাত্রীর শিক্ষাজীবন এভাবে ধ্বংস করার বিরোধিতা করেছে।
বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতৃত্ব দাবি করেছে, যেকোনো অন্যায় কাজের সাজা হতেই পারে। কিন্তু এই শাস্তি অত্যন্ত প্রতিশোধমূলক ও মাত্রাতিরিক্ত। বিষয়টিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে আক্রমণ বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে মন্তব্য করেছেন।
এ ঘটনার জন্য বামপন্থীদের বিকৃত মানসিকতা ও উসকানিকেই দায়ী করে এবিভিপির তরফে বলা হয়েছে, স্বামী বিবেকানন্দের মতো ব্যক্তিত্বকে তাঁর নিজেরই সাবেক কলেজে অপমান করা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।