মুসলিম অভিবাসীদের মধ্যে ইহুদিবিদ্বেষ থাকলে জার্মানি ছাড়ার আহ্বান চ্যান্সেলর মের্ৎসের

· Prothom Alo

জার্মানির মুসলিম অভিবাসীদেরকেও দেশটিতে হওয়া হলোকাস্ট বা ইহুদি গণহত্যার ঐতিহাসিক দায়দায়িত্ব স্বীকার করতে হবে। এই দায়িত্ব যাঁরা স্বীকার করবেন না, তাঁদের জার্মানি ছেড়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস।

Visit sport-tr.bet for more information.

জার্মানির রাজধানী বার্লিনে গত শুক্রবার ইহুদি ক্রীড়াবিদদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মের্ৎস এ কথা বলেন। জার্মান প্রেস এজেন্সি (ডিপিএ) সূত্রে এ খবর জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বার্লিনার জাইটুং। বার্লিনে চ্যান্সেলরের কার্যালয়ে ২০২৬ সালের ‘মাকাবিয়া’ ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পদকজয়ীদের সম্মানে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ইসরায়েলে প্রতি চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত হয় ইহুদিদের এই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। এটি ‘ইহুদি অলিম্পিক’ নামেও পরিচিত।

অনুষ্ঠানে একজন বাস্কেটবল প্রশিক্ষক মের্ৎসকে বলেন, তাঁর দলের ইহুদি ক্রীড়াবিদেরা জার্মানির রাস্তায় ডেভিডের তারকা চিহ্নসংবলিত লাল মাকাবি ট্রেনিং জ্যাকেট পরে বের হতে ভয় পান। কারণ, এ কারণে তাঁদের ওপর হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

মাকাবিয়া ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পদকজয়ীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস (মাঝে)। জার্মানির বার্লিনে চ্যান্সেলরের কার্যালয়ে। ৬ নভেম্বর ২০২৬

এর জবাবে মের্ৎস জার্মানির সাবেক রাষ্ট্রপতি রিশার্ড ফন ভাইৎসেকারের ১৯৮৫ সালে দেশটির সংসদে দেওয়া একটি ঐতিহাসিক ভাষণের প্রসঙ্গ তোলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসানের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া ওই ভাষণে নাৎসি বাহিনীর অপরাধ এবং লাখ লাখ ইহুদিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার দায় ও দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন ভাইৎসেকার।

১৯৮৫ সালের ৮ মে দেওয়া ওই ভাষণে ভাইৎসেকার বলেছিলেন, ‘অতীতে যা ঘটেছিল, তার জন্য তরুণেরা দায়ী নয়; কিন্তু ইতিহাসে সেই ঘটনার পরিণতি কী হবে, তার জন্য তারা দায়ী।’

মের্ৎস বলেন, ভাইৎসেকারের এই কথাগুলো তাঁর কাছে পাথরে খোদাই করা সত্যের মতো অটল। এই দায়িত্ব জার্মানির সমগ্র সমাজের জন্য প্রযোজ্য। বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘ইসলামি দেশগুলো থেকে যাঁরা জার্মানিতে আসেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও আমাদের দেশের এই ঐতিহাসিক দায়িত্ব ঠিক একইভাবে প্রযোজ্য। আর কেউ যদি এই দায়িত্ব মেনে না চলেন, তাহলে তাঁকে আমাদের দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে।’

মুসলিম অভিবাসীদের একাংশের বিরুদ্ধে ইহুদিবিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের প্রসঙ্গেই মের্ৎস এ মন্তব্য করেন।

Read full story at source