মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকার মতো কিছু তেলাপোকা

· Prothom Alo

টেবিলের ওপর ওটা কী? দূর থেকে দেখে মনে হলো একটা খেজুর। হাত বাড়ালে তুমি। যেই–না ধরতে যাবে, অমনি ফরফর করে উড়ে গেল ‘খেজুর’টা। আর সেই উড়ন্ত খেজুর দেখে তুমি দিলে এক গগনবিদারী চিৎকার। এখন তোমার মাথায় কেবল একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। আচ্ছা, এই তেলাপোকাগুলো দেখতে এত বিশ্রী কেন হয়?

দেশে সচরাচর যে তেলাপোকাগুলো দেখা যায়, সেগুলোর ওপর সবারই রাগ। এদের রংটাও কেমন বিদঘুটে। বেশির ভাগ সময় তেলাপোকাগুলোর রং হয় গাঢ় বা হালকা বাদামি, কখনো আবার ফ্যাকাশে সাদা। লোকালয়ে এসব তেলাপোকা দেখে মানুষ একেবারে অতিষ্ঠ। এরা ফেলে রাখা খাবারের চারপাশে ঘুরঘুর করে আর পরিবেশ নষ্ট করে। বাসাবাড়িতে ঘুরে বেড়ানো বড় আকারের তেলাপোকাগুলো মূলত আমেরিকান প্রজাতির। এ ছাড়া ছোট ছোট যেগুলোকে ‘চায়নিজ তেলাপোকা’ বলে ডাকা হয়, সেগুলো আসলে জার্মান প্রজাতির। এখন বললে তো কেউ বিশ্বাসই করবে না যে তেলাপোকারাও সুন্দর হতে পারে!

Visit asg-reflektory.pl for more information.

বিশ্বাস করো আর না–ই করো, প্রকৃতির ভান্ডারে এমন কিছু তেলাপোকা আছে, যেগুলো দেখলে তুমি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকবে। চলো তবে, আজ কিছু অপরিচিত সুন্দর তেলাপোকার খোঁজে বের হই।

ভয় জেনেও মানুষ কেন রোলার কোস্টারে ওঠে

১. এমেরাল্ড ককরোচ

এমেরাল্ড ককরোচ

এমেরাল্ড ককরোচদের কিন্তু নামেই পরিচয়! ছোট ছোট পান্না পাথরের মতোই সুন্দর হয় এসব পোকা। তবে চকচকে সবুজ রঙের এই তেলাপোকা নর্দমায় বা লোকালয়ে থাকে না। এদের দেখা মেলে ভিয়েতনাম আর চীনের বনজঙ্গলে। বনের ফলমূল খেয়েই এদের দিন কাটে। আকারে এসব তেলাপোকা ৩ থেকে ৩.৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়। কোনো কারণে আতঙ্কিত হয়ে পড়লে এরা নিজেদের শরীরটা গুটিয়ে নিটোল বলের মতো করে ফেলে। সেভাবে তৈরি করে নেয় সবুজ রঙের একটি ঢাল। চমৎকার রূপের কারণে পোকা সংগ্রাহকদের কাছে এমেরাল্ড ককরোচদের কদর অনেক। আজকাল তো শখের বশে সাধারণ মানুষও এসব পোকা কিনে ঘরে নিয়ে আসছে।

২. মেলিরোইডিয়া ম্যাগনিফিকা

মেলিরোইডিয়া ম্যাগনিফিকা

মেলিরোইডিয়া ম্যাগনিফিকা আসলে একটি বৈজ্ঞানিক নাম। তাই এই তেলাপোকাগুলোর নামটা বেশ দাঁতভাঙা। এদের বসবাস আমাজনের গহিন বনে। তবে চাইলেই কিন্তু এদের দেখা পাওয়া যায় না। পোকা হিসেবে মেলিরোইডিয়া ম্যাগনিফিকা বেশ দুর্লভ। ১৯১২ সালে প্রথমবারের মতো লাল-সবুজ রঙের এসব তেলাপোকার খোঁজ পাওয়া যায়। তুমি হয়তো ভাবতে পারো, এদের রং এত সুন্দর হয় কেন? আসলে এই আকর্ষণীয় রং দিয়ে ওরা বিষাক্ত বিটল পোকার ছদ্মবেশ ধরে। এতে করে শিকারিরা মেলিরোইডিয়া ম্যাগনিফিকাকে বিষাক্ত ভেবে এড়িয়ে চলে। তবে এদের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিকটি হলো সমাজব্যবস্থা। বিজ্ঞানীদের ধারণা, ঠিক মৌমাছিদের মতোই এদেরও রানি আর কর্মী আছে। হয়তো একদম সুগঠিত এক সমাজ তৈরি করে বাস করে এসব তেলাপোকা।

সারা সপ্তাহ সুস্থ, ছুটির দিনেই কেন অসুস্থ লাগে

৩. মার্ডি গ্রাস ককরোচ

মার্ডি গ্রাস ককরোচ

অস্ট্রেলিয়ার পোকামাকড় আর সাপ-বিচ্ছুর প্রকোপ যে বেশি, এ কথা হয়তো শুনেছ তুমি। অন্য সব মহাদেশের চেয়ে অস্ট্রেলিয়ার জীববৈচিত্র্য একেবারেই আলাদা। সেখানেই এক রঙিন তেলাপোকা উল্টো প্রকৃতি পরিষ্কারের কাজ করে। ঠিকই শুনেছ! আমাদের চিরচেনা তেলাপোকাগুলোর মতো পরিবেশ নোংরা করে না এই মার্ডি গ্রাস ককরোচ। এরা মূলত গাছ থেকে ঝরে পড়া পাতা খেয়ে বাঁচে। বিশেষ করে ইউক্যালিপটাস আর বাবলাগাছের বিষাক্ত পাতা এদের খুব প্রিয়। এসব পাতা খেয়ে এরা পরিবেশ পরিষ্কার ও নিরাপদ রাখতে সাহায্য করে।

উজ্জ্বল নীল, হলুদ কিংবা তামাটে রঙের মার্ডি গ্রাস ককরোচ দেখা যায়। এদের আবার ফুলে ফুলে বসার অভ্যাসও আছে। অনেক সময় এদের গায়ে ফুলের রেণু লেগে থাকতেও দেখা যায়। ‘গাইড টু অস্ট্রেলিয়ান ককরোচ’ বইয়ের লেখক, ডেভিড রেন্টজের মতে, মার্ডি গ্রাস ককরোচ হয়তো মৌমাছিদের মতো পরাগায়নেও সাহায্য করে।

ঘুম কোন বয়সে কত ঘণ্টা, কেমন আর কত দূর গেলে বিপদ হবে

৪. কিউবান ককরোচ

কিউবান ককরোচ

তেলাপোকাদের বেশির ভাগ সময় দিগ্বিদিক ছুটতেই দেখা যায়। হুটহাট উড়ে আসা তেলাপোকা দেখলে যে কারও পিলে চমকে যাবে। কিন্তু কিউবান ককরোচরা প্রজাপতির মতো দিব্যি উড়েই চলে। হালকা সবুজ রঙের এসব তেলাপোকাকে উড়তে দেখে তোমাদের ভয় লাগবে না মোটেও। দূর থেকে দেখে মনে হতে পারে, সুন্দর কোনো ঘাসফড়িং উড়ছে। এদের আদি নিবাস মূলত কিউবায়। কাঁচা সবুজ কলার সঙ্গে এদের রং এমনভাবেই মিলে যায় যে আলাদাই করা যায় না। আর এভাবেই কলার চালানের সঙ্গে কিউবান ককরোচ পুরো আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়েছে। তাই এদের নামই হয়ে গেছে ‘ব্যানানা ককরোচ’ বা কলার তেলাপোকা। এরা মানুষের কোনো ক্ষতি করে না, কামড়ায়ও না। এদের দিয়ে কোনো রোগব্যাধি ছড়ানোর রেকর্ডও নেই।

মিস্টার বিস্ট ভেঙে ফেলেছেন সব রেকর্ড, ইউটিউবের ইতিহাসে এখন সর্বোচ্চ সাবস্ক্রাইবার তাঁর

৫. কোয়েশ্চেন মার্ক ককরোচ

কোয়েশ্চেন মার্ক ককরোচ

তেলাপোকার আবার এটা কেমন নাম! কোয়েশ্চেন মার্ক ককরোচদের কালো শরীরে সাদা ডোরাকাটা দাগ থাকে। সেসব দাগ দেখলে অবিকল প্রশ্নবোধক চিহ্নের মতো মনে হয়। আর সেই থেকেই এদের এমন অদ্ভুত নাম। লেডিবাগের মতো দেখতে এসব তেলাপোকার দেখা মেলে ভারতের তেলেঙ্গানা ও অন্ধ্রপ্রদেশ অঞ্চলে। এরা মূলত ঝরে পড়া পাতা খেয়ে বাঁচে। আকর্ষণীয় রূপের জন্য অনেক পোকামাকড় সংগ্রাহকের কাছে কোয়েশ্চেন মার্ক ককরোচ বেশ মূল্যবান। তবে এদের ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানো বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এরা মাটির নিচে নিজেদের ডিম পুঁতে রাখে। সেই ডিম ফুটে বাচ্চা বের হতে সময় লাগে ৩ থেকে ৬ মাস। আর সেই বাচ্চা পূর্ণাঙ্গ কোয়েশ্চেন মার্ক ককরোচ হতে সময় নেয় আরও ৬ থেকে ১২ মাস। এরপর এরা ৩ থেকে সর্বোচ্চ ৯ মাস পর্যন্ত বাঁচে। মজার ব্যাপার হলো, কোয়েশ্চেন মার্ক ককরোচ ভয় পেলে মৃত হওয়ার ভান করে। এরা উড়তেও পারে না, আবার কাচ বেয়ে ওঠার চেষ্টাও করে না। তাই যারা নতুন নতুন পোকা সংগ্রহ করা শুরু করেছে, তাদের জন্য এরা একদম আদর্শ।

তাই এর পর থেকে বাসার নোংরা তেলাপোকা দেখে পৃথিবীর ৪ হাজার প্রজাতির সব তেলাপোকাকে একসঙ্গে গালি দিয়ো না যেন! অদ্ভুত সুন্দর তেলাপোকাগুলোর কথাও একটু মাথায় রেখো। আর হ্যাঁ, মনে রেখো, এই তেলাপোকারা কিন্তু ডাইনোসরদের চেয়েও প্রাচীনকাল থেকে পৃথিবীতে বীরদর্পে টিকে আছে।

শুধু পাঁচটা নয়, মানুষের আছে আরও অনেক ইন্দ্রিয়

Read full story at source