সব শাকসবজিকে ছাড়িয়ে গেল কাঁচকলা
· Prothom Alo

স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে কাঁচকলা সবজি হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। চাহিদা ভালো থাকায় দেশে এটির উৎপাদন দিন দিন বাড়ছে। গত বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর তিন মাসে সারা দেশে ২ লাখ ২৩ হাজার মেট্রিক টন কাঁচকলা উৎপাদিত হয়েছে, যা ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় ৩৯ হাজার মেট্রিক টন বেশি।
Visit rouesnews.click for more information.
কাঁচকলার মতো মিষ্টিকুমড়া, বরবটি, কলমিশাক, পাটশাক, কচুপাতা, ধুন্দলসহ কয়েক ধরনের শাকসবজির উৎপাদনও বেড়েছে। তবে এগুলোর মধে৵ কাঁচকলার উৎপাদন বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘ত্রৈমাসিক শস্য পরিসংখ্যান ও কৃষিশ্রমিকের মজুরি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
বিবিএস বলেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর তিন মাসে ২৮ হাজার ৯৫৭ একর জমিতে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫১৫ মেট্রিক টন কাঁচকলা উৎপাদিত হয়েছে। আর চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ে, অর্থাৎ অক্টোবর-ডিসেম্বরে ২৯ হাজার ২১১ একর জমিতে ২ লাখ ২৩ হাজার ৬৩১ টন কাঁচকলার উৎপাদন হয়। তার মানে এবার কাঁচকলার উৎপাদন ৩৯ হাজার ১১৬ মেট্রিক টন বেশি হয়েছে। গত অর্থবছরের অক্টোবর-ডিসেম্বরে প্রতি একরে ৬ দশমিক ৩৭ টন কাঁচকলা উৎপাদিত হয়েছিল। চলতি অর্থবছরে সেটি বেড়ে হয়েছে একরপ্রতি ৭ দশমিক ৬৫ টন।
চলতি অর্থবছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে ১ লাখ ৮২ হাজার মেট্রিক টন মিষ্টিকুমড়া উৎপাদিত হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২৮ হাজার ৫২৭ টন বেশি। আগের অর্থবছরের অক্টোবর–ডিসেম্বরের তুলনায় বরবটির উৎপাদন বেড়েছে ১৩ হাজার ২০৭ টন। চলতি অর্থবছরের এই তিন মাসে বরবটি উৎপাদিত হয়েছে ৫৬ হাজার ৪৪৯ টন। আগের বছরের একই সময়ে উৎপাদিত হয়েছিল ৪৩ হাজার ২৪২ টন বরবটি। এবার প্রতি একরে ৩ দশমিক ১৫ টন বরবটি উৎপাদিত হয়েছে।
এ ছাড়া কলমিশাকের উৎপাদন প্রায় ৬ হাজার টন বেড়েছে। গত অর্থবছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে ১৩ হাজার ৬৪৯ টন কলমিশাক উৎপাদিত হয়। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে হয় ২০ হাজার ৯৬ টন। এবার প্রতি একরে তিন টন কলমিশাক উৎপাদিত হয়েছে।
একইভাবে পাটশাকের উৎপাদনও বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর সময়ে ১৭ হাজার ৮৪৭ টন পাটশাক উৎপাদিত হয়, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ হাজার ১৮৭ টন বেশি। এবার প্রতি একরে ২ দশমিক ২৯ টন পাটশাক উৎপাদিত হয়েছে।
সবজিবিবিএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্যান্য পেশার মতো কৃষিতেও নারী-পুরুষ শ্রমিকের মধ্যে মজুরিবৈষম্য বেশ প্রকট। কৃষিকাজে একজন নারী শ্রমিকের মজুরি পুরুষ শ্রমিকের চেয়ে অন্তত ২৬ শতাংশ কম। গত ডিসেম্বরে একজন পুরুষ কৃষিশ্রমিকের দৈনিক গড় মজুরি ছিল ৬২৫ টাকা। ওই সময়ে একজন নারী কৃষিশ্রমিক মজুরি পেয়েছেন ৪৬২ টাকা।
গত ডিসেম্বর মাসে তিন বেলা খোরাকির সঙ্গে একজন পুরুষ শ্রমিক মজুরি পেয়েছেন ৫২৩ টাকা, যা নারীর ক্ষেত্রে ছিল ৩৮৫ টাকা। আগের দুই মাসেও প্রায় একই চিত্র দেখা গেছে। তার মানে কৃষিকাজে এখনো মজুরির সঙ্গে তিন বেলা খাবার দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। আবার এক বেলা ও দুই বেলা খাবার দেওয়ার রেওয়াজও আছে। তবে খাবার এক বেলা বা তিন বেলা যা–ই হোক না কেন, মজুরিবৈষম্য সব ক্ষেত্রেই রয়েছে।