২১ শতকের সবচেয়ে বাজে ১৪ আইডিয়া
· Prothom Alo

নতুন নতুন আবিষ্কার ও প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে সহজ করে তোলে। কিন্তু সব আইডিয়াই যে সফল হয়, তা নয়। অনেক সময় বড় বড় স্বপ্ন দেখানো কিছু আইডিয়া বাস্তবে কোনো কাজেই আসে না! এমনকি কিছু আইডিয়া চরম ব্যর্থ, অবাস্তব বা উল্টো ক্ষতিকর বলেও প্রমাণিত হয়। একুশ শতকের প্রথম ২৫ বছরে এমনই কিছু বহুল আলোচিত অথচ ব্যর্থ আইডিয়ার কথা নিয়েই আমাদের এই আয়োজন।
১. মেটাভার্স
ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ সম্পূর্ণ ভার্চ্যুয়াল বা কাল্পনিক একটি পৃথিবীর ধারণা দিয়েছিলেন। সেখানে মানুষ নিজের ভার্চ্যুয়াল চরিত্র ব্যবহার করে কাজ করবে, মিটিং করবে কিংবা ঘুরে বেড়াবে। কিন্তু বাস্তবে এই প্রযুক্তি মানুষের কাছে বিশেষ পাত্তা পায়নি। ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি হেডসেট ব্যবহার করা বেশ ঝামেলার হওয়ায় মানুষ এতে খুব বেশি আগ্রহ দেখায়নি।
Visit afnews.co.za for more information.
২. হাইপারলুপ
ইলন মাস্ক এমন একটি ভবিষ্যৎ পরিবহন ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যেখানে একটি বিশেষ বায়ুশূন্য টিউবের ভেতর দিয়ে ট্রেনের মতো ক্যাপসুল ঘণ্টায় প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার গতিতে ছুটবে! ধারণাটি শুনতে রোমাঞ্চকর হলেও বাস্তবে এটি তৈরি করা অত্যন্ত কঠিন এবং এর ব্যয়ও আকাশছোঁয়া।
৩. এক ফোঁটা রক্তে সব রোগ শনাক্তকরণ
থেরানোস নামে স্বাস্থ্য প্রযুক্তিবিষয়ক একটি মার্কিন কোম্পানি দাবি করেছিল, আঙুল থেকে নেওয়া মাত্র এক ফোঁটা রক্ত দিয়ে শত শত রোগের পরীক্ষা করা যাবে। কিন্তু পরে প্রমাণিত হয়, তাদের এই দাবি ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া এবং তাদের পরীক্ষার ফলগুলোও সঠিক নয়। শেষ পর্যন্ত ভয়ংকর প্রতারণার দায়ে কোম্পানিটি বিশাল কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে বন্ধ হয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা থ্রি-ডি প্রিন্টার ব্যবহার করে প্লাস্টিকের বন্দুক বানানোর নকশাকে অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি আইডিয়া বলে মনে করেন৪. থ্রি-ডি প্রিন্ট করা বন্দুক
থ্রি-ডি প্রিন্টার ব্যবহার করে প্লাস্টিকের বন্দুক বানানোর নকশা একসময় ইন্টারনেটে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা এটিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি আইডিয়া বলে মনে করেন। কারণ, এর ফলে ঘরে বসেই সহজে অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব, যা অতীত বা বর্তমান যেকোনো সময়ের জন্যই ভয়ংকর হুমকি।
পৃথিবীর এত পানি এল কোথা থেকেইলন মাস্ক এমন একটি ভবিষ্যৎ পরিবহন ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যেখানে একটি বিশেষ বায়ুশূন্য টিউবের ভেতর দিয়ে ট্রেনের মতো ক্যাপসুল ঘণ্টায় প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার গতিতে ছুটবে!
৫. ফেসবুকের লাইক বাটন
ফেসবুকের লাইক বাটন মানুষকে সব সময় অন্যের প্রশংসা বা মনোযোগ পাওয়ার জন্য পোস্ট দিতে উৎসাহিত করে। কিন্তু একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, এটি আদতে মানুষের মানসিক চাপ ও আসক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এসব নেতিবাচক প্রভাবের কারণেই পরে লাইক বাটনের বিভিন্ন নতুন সংস্করণ বা রিঅ্যাকশন আনা হয়েছে, যা নিয়ে এখনো বিস্তর গবেষণা চলছে।
৬. সেগওয়ে
দুই চাকার এই অদ্ভুত যানটিকে একসময় ভবিষ্যতের ব্যক্তিগত যানবাহন বলে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছিল। ভাবা হয়েছিল, সবাই হাঁটার বদলে এটি ব্যবহার করবে। কিন্তু বাস্তবে খুব কম মানুষই এই সেগওয়ে ব্যবহার করেছে।
অতিরিক্ত শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য সংকটগুলোর একটি হয়ে উঠেছে৭. অতিরিক্ত ব্যথানাশক ওষুধ
অতিরিক্ত শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধ চিকিৎসায় ব্যবহারের ফলে প্রচুর মানুষ এতে মারাত্মকভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছে। এটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য ও সামাজিক সংকটগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।
৮. এনএফটি ডিজিটাল আর্ট
এনএফটি বা ডিজিটাল ছবি ও শিল্পকর্ম একসময় লাখ লাখ ডলারে বিক্রি হয়ে প্রযুক্তিদুনিয়ায় হইচই ফেলে দিয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই এগুলোর বেশির ভাগেরই আর কোনো মূল্য থাকেনি। সাধারণত সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সত্যিকারের শিল্পকর্মের মূল্য বাড়ে, কিন্তু এনএফটি আর্টগুলো খুব দ্রুতই মূল্যহীন হতে শুরু করে।
কচ্ছপের খোলস আসলে হাড়একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, ফেসবুকের লাইক বাটনটি আদতে মানুষের মানসিক চাপ ও আসক্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
৯. ভিডিও গেমের লুট বক্স
অনেক ভিডিও গেমে টাকা দিয়ে রহস্যময় লুট বক্স কিনে নতুন বা দুর্লভ আইটেম পাওয়ার সুযোগ থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শিশুদের এবং গেমারদের মধ্যে জুয়া খেলার মতো ভয়ংকর আসক্তি তৈরি করতে পারে।
১০. গুগল গ্লাস
গুগল একধরনের স্মার্ট চশমা বানিয়েছিল, যা চোখে পরেই ছবি ও ভিডিও তোলা যেত। কিন্তু এটি নিয়ে সাধারণ মানুষ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা প্রাইভেসি লঙ্ঘনের আশঙ্কায় চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। ফলে বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গেই প্রযুক্তিটি মানুষের তীব্র বিরোধিতার মুখে জনপ্রিয়তা হারায়।
গুগলের তৈরি স্মার্ট চশমা নিয়ে সাধারণ মানুষ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের আশঙ্কায় চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিল১১. খাবারে স্বাস্থ্যকর লেবেল
বাজারে অনেক খাবারের প্যাকেটে অর্গানিক, ন্যাচারাল বা হাই-প্রোটিন লেখা থাকে। ভোক্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এটি চমৎকার আইডিয়া হলেও বাস্তবে এসব প্রক্রিয়াজাত খাবারে অনেক সময় চিনি, লবণ বা অস্বাস্থ্যকর চর্বি অনেক বেশি থাকে।
১২. পাওয়ার পোজিং
একসময় মনস্তাত্ত্বিক গবেষণায় বলা হয়েছিল, বিশেষ ভঙ্গিতে—সুপারম্যানের মতো—দাঁড়ালে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং হরমোনের ইতিবাচক পরিবর্তন হয়। কিন্তু পরে বারবার গবেষণা করেও বিজ্ঞানীরা এই ধারণার সপক্ষে তেমন কোনো শক্ত প্রমাণ পাননি।
ভোঁতা ছুরিতে পেঁয়াজ কাটলে কান্না বেশি পায়গুগল একধরনের স্মার্ট চশমা বানিয়েছিল, যা চোখে পরেই ছবি ও ভিডিও তোলা যেত। কিন্তু এটি নিয়ে সাধারণ মানুষ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা প্রাইভেসি লঙ্ঘনের আশঙ্কায় চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।
১৩. মঙ্গল গ্রহে বসতি গড়ার প্রকল্প
মার্স ওয়ান নামে একটি প্রকল্প সাধারণ মানুষকে মঙ্গল গ্রহে নিয়ে গিয়ে চিরস্থায়ী বসতি গড়ার রোমাঞ্চকর এক পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু কারিগরি ও আর্থিকভাবে পরিকল্পনাটি মোটেও বাস্তবসম্মত না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি দেউলিয়া হয়ে বন্ধ হয়ে যায়।
ফেসবুক ব্যবহারকারীদের না জানিয়ে নিউজফিড পরিবর্তন করেছিল—এটি ফাঁস হওয়ার পর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়১৪. ফেসবুকের গোপন মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা
ফেসবুক একবার ব্যবহারকারীদের না জানিয়ে তাঁদের নিউজফিড ইচ্ছেমতো পরিবর্তন করে একটি গোপন মনস্তাত্ত্বিক গবেষণা চালিয়েছিল। তারা আসলে মানুষের আবেগের প্রভাব দেখতে চেয়েছিল। বিষয়টি ফাঁস হওয়ার পর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নীতিবোধ নিয়ে বিশ্বজুড়ে চরম বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
সূত্র: সায়েন্স ফোকাসলোহাকে সোনায় পরিণত করা গেলেও বিজ্ঞানীরা তা করেন না কেন