শিক্ষা ক্ষেত্রে একবারই রেজিস্ট্রেশন করতে হবে: যশোরে শিক্ষামন্ত্রী
· Prothom Alo

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এক শ্রেণি থেকে অন্য শ্রেণিতে উঠতে নতুন করে ভর্তির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক (মিলন) বলেছেন, এক মুরগি তিনবার জবাই করা যাবে না। শিক্ষা ক্ষেত্রে একবারই রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শ্রেণি পরিবর্তনের সময় নতুন করে ভর্তির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখতে তিনি শিক্ষাসংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন। আজ সোমবার দুপুরে যশোর পিটিআই মিলনায়তনে এ সভার আয়োজন করা হয়।
Visit librea.one for more information.
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আজকের ছাত্রছাত্রীরা নকল করলে শিক্ষকদের দুর্বলতা। করোনার মতো নকলের রূপ পাল্টেছে। এখন ডিজিটালি হচ্ছে নকল। সমস্যা আমাদের মানসিকতায়। শিক্ষাব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিতে হলে সবার আগে শিক্ষকদের গুরুত্ব দিতে হবে। কেবল মন্ত্রী পরিবর্তন করলেই শিক্ষার উন্নয়ন সম্ভব নয়, বরং যারা মানুষ গড়ার কারিগর, সেই শিক্ষকদের যথাযথ মূল্যায়ন ও ক্ষমতায়ন প্রয়োজন।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে দেশের উন্নয়নের প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘অন্য দশটি মন্ত্রণালয়ের চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আলাদা। আমি এখানে শিক্ষকদের জবাবদিহির কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে চাই না, বরং তাঁদের সঙ্গে নিয়ে একটি আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়তে চাই।’ তিনি বিরোধী দলসহ দেশের প্রতিটি সংসদ সদস্যকে প্রতিদিন শিক্ষা নিয়ে কথা বলার এবং সংসদে শিক্ষাবিষয়ক নোটিশ দেওয়ার আহ্বান জানান।
সাবেক সরকারের সমালোচনা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতে অনেকেই নকল প্রবণতাকে প্রশ্রয় দিয়েছেন। ২০০১ সালের পর সরকার কঠোরভাবে নকল নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছে। তবে করোনার পরবর্তী সময়ে নকলের ধরন পাল্টে ডিজিটাল জালিয়াতি শুরু হয়েছে। এটি প্রতিরোধে শিক্ষক ও প্রশাসনকে আরও সজাগ হওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
এহছানুল হক বলেন, ‘আমি সারা দেশে ঘুরে মতবিনিময় করছি। আমার এই মতবিনিময়ে অনেকেই ব্যথিত-দুঃখিত, আবার অনেকেই উৎসাহিত। তবে এমপি সাহেবরা আন্তরিক। ২০ বছর আগে যশোরে এসেছিলাম। তখন দুই ট্রাক গাইড উদ্ধার করেছিলাম। এখনো হয়তো ২০ ট্রাক গাইড উদ্ধার করতে পারব। পরিবর্তন হয়েছে এটুকুই।’
যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মোসাম্মাৎ আসমা খাতুনের সভাপতিত্বে সভায় অতিথি ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস বেগম। বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর–৫ আসনের সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক, যশোর-৬ আসনের মোক্তার আলী, ঝিনাইদহ-৩ আসনের মতিউর রহমান, নড়াইল-২ আসনের আতাউর রহমান, বাগেরহাট-৪ আসনের আবদুল আলিম ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জিএম নজরুল ইসলাম। আরও বক্তব্য দেন কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান রুহুল আমিন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মিয়া মো. নুরুল হক। সভায় যশোর শিক্ষা বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও খুলনা বিভাগের ১০ জেলার শিক্ষকেরা উপস্থিত ছিলেন।