ভোগ্যপণ্যের জন্য ৪-৫টি কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল: গোলাম মাওলা

· Prothom Alo

দেশের ১৮ থেকে ২০ কোটি মানুষ ভোগ্যপণ্যের জন্য মাত্র ৪-৫টি বড় শিল্পগোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন রাজধানীর মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা। এটিকে দেশের সামগ্রিক বাজার ব্যবস্থার জন্য ‘ভয়ানক ব্যাপার’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, বেসরকারি খাতের পাশাপাশি সরকারের একটি বিকল্প ব্যবস্থা বা ‘রিজার্ভ ডিফেন্স’ থাকা জরুরি।

আজ বৃহস্পতিবার প্রথম আলো আয়োজিত ‘সংকটকালের বাজেট ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় গোলাম মাওলা এ কথা বলেন। রাজধানীর এক হোটেলে এই বৈঠক চলছে।

Visit somethingsdifferent.biz for more information.

বাজার ব্যবস্থাপনায় গুটিকয়েক বড় গ্রুপের আধিপত্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গোলাম মাওলা বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে সেনাবাহিনী বলি, পুলিশ বলি বা ১৮-২০ কোটি সাধারণ মানুষ—সবাই ৪-৫টা শিল্পগোষ্ঠীর কাছে আমরা নির্ভরশীল। এটি ভয়ানক ব্যাপার।’

গোলাম মাওলা বলেন, ‘আল্লাহ না করুক, আজ চট্টগ্রামে একটা বড় গ্রুপ বসে গেছে, সিটি গ্রুপের অবস্থাও খুব একটা ভালো দেখছি না। যদি আমরা মুষ্টিমেয় কয়েকজনের ওপরে নির্ভরশীল হয়ে থাকি, তবে যেকোনো সময় বিপদের সংকেত হতে পারে।’

আলোচনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) বিদ্যমান শুল্ক ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করেন গোলাম মাওলা। তিনি অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে এনবিআরের নির্ধারিত ট্যারিফমূল্যের (শুল্কায়নমূল্য) কোনো সংগতি নেই।

এ বিষয়ে উদাহরণ দিয়ে গোলাম মাওলা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এলাচের দাম যখন টনপ্রতি ২২ হাজার ডলার, তখন সরকারের ট্যারিফমূল্য ধরা আছে মাত্র সাড়ে ৭ হাজার ডলার। এই বিশাল অসামঞ্জস্যের কারণে ব্যবসায়ীরা ইচ্ছা-অনিচ্ছায় আন্ডার বা ওভার ইনভয়েসিংয়ের মতো অস্বচ্ছ পথ বেছে নিচ্ছেন।

আমদানি ও শুল্কায়নের জটিলতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে গোলাম মাওলা বলেন, ‘আমরা টাকা দিয়ে ব্যবসা করব, কেন আমাদের আন্ডার ইনভয়েস বা ওভার ইনভয়েসের তকমা নিতে হবে?’

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চ শুল্ক নিয়ে গোলাম মাওলা বলেন, ‘জিরা একটি নিত্যপণ্য, যা প্রতিটি পরিবারে লাগে। অথচ জিরাকে ভিআইপি পণ্যের খাতে রাখা হয়েছে। আমদানিতে কেজিপ্রতি ২০০ টাকা শুল্ক–কর দিতে হয়। এলাচে দিতে হয় ১১০০ টাকা।’

গোলাম মাওলা আমদানি করা পণ্যের ওপর শতাংশ হারে শুল্ক বসানোর পরিবর্তে ওজন বা টনপ্রতি ‘স্পেসিফিক ডিউটি’ বা প্যাকেজভিত্তিক শুল্ক নির্ধারণের দাবি জানান। তিনি বলেন, যে দেশ থেকেই আনা হোক, টনপ্রতি একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ রাজস্ব ঠিক করে দিলে আর কোনো অস্বচ্ছতা থাকবে না।’

ব্যবসায়ীদের টাকা পাচারের অভিযোগের বিষয়ে গোলাম মাওলা বলেন, ‘আমাদের বলা হয় আমরা টাকা পাচার করি৷ আসলে পাচার ঠিক না। দুবাই বা চীনের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আমাদের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সম্পর্ক থাকে, পাওনা থাকলে তা সমন্বয় করা হয়।’

সরকারি সিদ্ধান্তের ধীরগতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে এই ব্যবসায়ী নেতা। তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যবসা ফেলে সভা করে যদি কোনো বাস্তবায়ন না দেখে, তবে লাভ কী? আমি বিনীত অনুরোধ করব, সিদ্ধান্তগুলো যেন ত্বরিত গতিতে বাস্তবায়ন করা হয়।’

Read full story at source