টুপি–বিভ্রাট

· Prothom Alo

১.
বছরখানেক আগের কথা। ঈদে আমরা পরিবারের সবাই—জ্যাঠা, জেঠি, চাচা, চাচি, চাচাতো-জ্যাঠাতো ভাইবোন বাক্সপেটরা গুছিয়ে যেতাম দাদুবাড়ি।
জনা তিরিশেক মানুষের হই হই রই রই ব্যাপার। যেকোনো ঈদের দিনের সকালই ধরা যাক।

Visit casino-promo.biz for more information.

বৈঠকখানায় বড়রা চায়ে চুমুক দিতে দিতে বিচিত্র ব্যাপারস্যাপার নিয়ে আলোচনা করছেন; ভাইয়েরা পুকুর থেকে গোসল করে এসে পাটভাঙা পাঞ্জাবি পরেটরে চিরুনি খুঁজে না পেয়ে চেঁচামেচি করছেন; আপুরা স্যুটকেস হাতড়ে একাকার করছেন; কারণ, ঈদের জামা পাওয়া গেলেও সেই জামার ম্যাচিং ওড়না খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। জেঠি আম্মারা তিন-চার জোড়া চুলায় শ খানেক মানুষের ঈদের রান্না বসিয়েছেন, এদিক–ওদিক থেকে চটপটি-বিরিয়ানি-ফালুদা-বুটের হালুয়ার সুবাস ছিটকে ছিটকে আসছে; পাশের বাড়ির কাচ্চাবাচ্চারা বিশাল বাড়ির এ–প্রান্ত থেকে ও–প্রান্ত দৌড়ে বেড়াচ্ছে আর মোমেনা ফুফু কাচের প্লেটের বান্ডিল ধুয়ে–মুছে অতি সাবধানে রান্নাঘর থেকে খাবারঘরে নিতে নিতে তাঁদের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে বকাবকি করছেন—সব মিলিয়ে বাতাসেই একটা ঈদ ঈদ সৌরভ।

এত হইহল্লাতেও আমার মতো খাঁটি বঙ্গীয় অলস প্রাণীর ঘুমটুম মোটেই ভাঙত না। ঈদের দিনে আমার অ্যালার্ম ক্লক হিসেবে কাজ করতেন আব্বা। ধাক্কা দিয়ে ঘুম থেকে তুলে আব্বা অতি সিরিয়াস মুখে দুহাতে দুইটা টুপি নাড়িয়ে প্রশ্ন করতেন, ‘মা, দ্যাখো তো, পাঞ্জাবিটার সঙ্গে কি এই টুপিটা পরব, নাকি এই টুপিটা পরব?’

জ্যোৎস্নায় হারানো কথা

২.
তারপর কয়েক বছরে এসেছে অনেক বদল। ভাইয়া-আপুরা বিয়েটিয়ে করে ফেলেছে, মিষ্টি সব ভাবি আর দুলাভাইয়েরা এসেছেন নতুন সদস্য হিসেবে, আমাদের ছেড়ে পরিবারের অনেকে চলেও গেছেন চিরদিনের মতো। অথচ এত কাণ্ডের পরও আমার বাবার টুপিসংক্রান্ত কনফিউশনের কোনো অবসান ঘটলই না!

সেবারও ঈদ দাদুবাড়িতেই। রান্নাঘর থেকে ভেসে আসছে সুবাস। চারদিকে কোলাহল। ফুল স্পিডে ফ্যান চালিয়ে এর মধ্যেও বেশ নাক ডেকে ঘুমাচ্ছি। হঠাৎ ঘুম ভাঙল। এবার আমার আব্বার হাতে তিনটা টুপি।
অতি সিরিয়াস মুখে হাত নাড়িয়ে প্রশ্ন করলেন, ‘মা, দ্যাখো তো, পাঞ্জাবিটার সঙ্গে এই টুপিটা পরব, এই টুপিটা পরব নাকি এই টুপিটা পরব?’

সবার কল্যাণ হোক। আমার আব্বার টুপি-সংক্রান্ত সমস্যাদির অবসান ঘটুক। সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক!

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Read full story at source