প্রয়াত বাবার কাছ থেকে কত টাকার শেয়ার পাচ্ছেন এক্মি ল্যাবরেটরিজের দুই পরিচালক
· Prothom Alo
দ্য এক্মি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের (এসিএমইএলএবি) প্রয়াত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও উদ্যোক্তা পরিচালক মিজানুর রহমান সিনহার শেয়ার তাঁর দুই সন্তানের নামে হস্তান্তর করা হচ্ছে।
বাবার উত্তরাধিকার বা মনোনীত উত্তরসূরি হিসেবে দুই সন্তান সমপরিমাণে এই শেয়ার পাবেন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে আজ বুধবার এ তথ্য জানা গেছে।
Visit michezonews.co.za for more information.
ডিএসই জানিয়েছে, গত ১৬ মে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান সিনহা ইন্তেকাল করেন। কোম্পানিতে তাঁর মোট ৮৫ লাখ ৭৪ হাজার শেয়ার রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, এই শেয়ারগুলো তাঁর দুই মনোনীত উত্তরসূরির বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হবে।
এর মধ্যে প্রয়াত এমডির কন্যা ও কোম্পানির বর্তমানে উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) তাসনিম সিনহা পাবেন ৪২ লাখ ৮৭ হাজার শেয়ার। আর বাকি ৪২ লাখ ৮৭ হাজার শেয়ার পাবেন তাঁর পুত্র ও কোম্পানির বর্তমান পরিচালক তানভীর সিনহা।
আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ডিএসইতে এক্মি ল্যাবসের শেয়ারের সর্বশেষ লেনদেন মূল্য (লাস্ট ট্রেডিং প্রাইস) ছিল ৭৭ টাকা ৮০ পয়সা। এই বাজারদর অনুযায়ী, মিজানুর রহমান সিনহার রেখে যাওয়া মোট শেয়ারের বর্তমান বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৬৬ কোটি ৭০ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। সেই হিসাবে বাবার কাছ থেকে ভাই-বোন প্রত্যেকেই প্রায় ৩৩ কোটি ৩৫ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ টাকার শেয়ার পাচ্ছেন।
অবশ্য কোম্পানিটির প্রতিটি শেয়ারের ফেস ভ্যালু বা অভিহিত মূল্য ১০ টাকা। সেই ফেস ভ্যালু হিসাব করলে এই শেয়ারের মোট আর্থিক মূল্য হয় ৮ কোটি ৫৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা। তাতে প্রত্যেকে পাবেন ৪ কোটি ২৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা। তবে শেয়ারবাজারের নিয়ম অনুযায়ী, উত্তরাধিকারীরা বর্তমান বাজারদরের উপরিউক্ত মূল্যের শেয়ারেরই মালিক হতে যাচ্ছেন।
ডিএসই জানিয়েছে, বিদ্যমান আইনি প্রক্রিয়া ও নিয়ম মেনেই মূল স্টক এক্সচেঞ্জের বাইরে (অফ-মার্কেট) এই শেয়ার হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
ভালো লভ্যাংশ ও ধারাবাহিক মুনাফায় এক্মি
শেয়ারবাজারের ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানি দ্য এক্মি ল্যাবরেটরিজ ২০১৬ সালে তালিকাভুক্ত হয়। দীর্ঘ এক দশক ধরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ভালো লভ্যাংশ দিয়ে আসছে।
২০২৩ ও ২০২৪ সালে যথাক্রমে ৩৩ শতাংশ ও ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ (ক্যাশ ডিভিডেন্ড) দেওয়ার পর ২০২৫ অর্থবছরেও বিনিয়োগকারীদের ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও কোম্পানিটির ব্যবসায়িক সাফল্য বেশ ভালো। প্রথম ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ৪০ পয়সা। বাজারে বর্তমানে কোম্পানিটির মোট শেয়ারসংখ্যা ২১ কোটি ১৬ লাখের বেশি এবং এর বাজার মূলধন প্রায় ১ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা।
সর্বশেষ এপ্রিল মাসের তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটির মোট শেয়ারের ৪০ দশমিক ৩৯ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩২ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রায় ২৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
ডিএসইর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এক্মি ল্যাবরেটরিজ পাঁচ বছর ধরে ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি ও মুনাফায় ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। মহামারি ও অর্থনৈতিক নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও কোম্পানিটি প্রতিবছরই শতকোটি টাকার ওপরে নিট মুনাফা ধরে রাখতে পেরেছে।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ বছরে কোম্পানিটির বার্ষিক নিট লাভ বেড়েছে প্রায় ৮৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০২১ সালে কোম্পানিটির নিট লাভ ছিল প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা। এর পর থেকে মুনাফার গ্রাফ শুধুই ওপরের দিকে উঠেছে।
২০২২ সালে একলাফে লাভ বেড়ে দাঁড়ায় ২১১ কোটি টাকায়। ২০২৩ সালে তা আরও বেড়ে হয় ২৩০ কোটি টাকা। আর ২০২৪ সালে কোম্পানিটি রেকর্ড ২৪৬ কোটি টাকা নিট লাভ করে। তবে সর্বশেষ ২০২৫ সালে বৈশ্বিক নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে লাভ সামান্য কমলেও কোম্পানিটি প্রায় ২৪৩ কোটি টাকার শক্তিশালী মুনাফা ধরে রাখতে পেরেছে।