মাদক মামলার জন্য আলাদা ট্রাইব্যুনাল করবে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

· Prothom Alo

বিদ্যমান আইন দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না, তাই আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সংসদে আইনটি বিল আকারে উত্থাপন করা হবে।

Visit moryak.biz for more information.

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, আইনটি সংশোধন করে মাদকদ্রব্যের জন্য আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতও থাকবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন দিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা যাচ্ছে না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সক্ষমতাও বাড়ানো যাচ্ছে না। যারা মাদকের ব্যবসা করে, তাদের সশস্ত্র গ্রুপ রয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা যখন অভিযান পরিচালনা করেন, তাঁদের কাছে অস্ত্র থাকে না। এটা অনেকটা ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দারের মতো।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারের পর থানায় হস্তান্তরের আগে রাখার জন্য অধিদপ্তরের নিজস্ব কোনো হাজতখানা নেই। তা ছাড়া মাদক শনাক্তকরণে দেশে পর্যাপ্ত পরীক্ষাগার নেই। ফলে জব্দ হওয়া মাদকের দ্রুত পরীক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ করতে সমস্যা হচ্ছে।

সংশোধিত আইনে হাজতখানা নির্মাণ, পরিবহন সুবিধা, ডগ স্কোয়াড ও আধুনিক অস্ত্র সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এসব সক্ষমতা বৃদ্ধির পর আরও জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হবে। ভবিষ্যতে মাদক ব্যবসায়ী কাউকে ধরার পর যেন হাজতখানায় রাখার ব্যবস্থা করা যায়, সে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকায় মাদকসংক্রান্ত প্রায় ৮০ হাজার মামলা চলমান। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ৩৯ হাজার এবং কক্সবাজারে ১৮ হাজার মাদক মামলা চলমান রয়েছে। অন্য জেলাগুলোর চিত্র একই। এসব মামলা পরিচালনায় বিদ্যমান আদালতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এসব মামলা পরিচালনায় এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে দিতে হয়। দিন শেষে দেখা যায় মামলা জটিলতার কারণে আসামিরা সুবিধা পেয়ে যান। সে পরিস্থিতি থেকে নিস্তার পেতে সরকার বিদ্যমান আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে এবং আলাদা ট্রাইব্যুনাল করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ আরও জানান, দেশে বর্তমানে ৮২ লাখ মানুষ কোনো না কোনোভাবে মাদক ব্যবহার করছে। বিপুলসংখ্যক তরুণ মাদক ব্যবহার করে। মাদকদ্রব্যের অপব্যবহারজনিত সমস্যা আরও ঘনীভূত হয়েছে। দেশে মাদকাসক্তের তুলনায় সরকারি সুবিধা এখনো সীমিত। মন্ত্রী বলেন, আইনি ভিত্তি শক্ত না হলে এগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করা যাবে না। এক হাজার ৪১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন প্রকল্প শুরু হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধের ধরন বদলে গেছে। এখন অনলাইনে মাদক কেনাবেচা হচ্ছে, সেই অর্থ অবৈধ পথে পাচার হচ্ছে এবং মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করা হচ্ছে। এসব অপরাধ মোকাবিলায় শক্তিশালী আইনি কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, মাদক আইন সংস্কারের পাশাপাশি মানি লন্ডারিং, সাইবার অপরাধসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনও আধুনিকায়ন করা হবে। এসব আইনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে। শক্তিশালী আইনি ভিত্তি ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে লড়াই করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আজকের অনুষ্ঠানে বেসরকারিভাবে পরিচালিত ৭৩টি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রকে মোট এক কোটি ১০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়। বেসরকারিভাবে পরিচালিত মাদকাসিক্ত নিরাময় কেন্দ্রের মালিকদের বিদ্যমান বিধিমালা ও গাইডলাইন অনুযায়ী পরিচালনা করার জন্য অনুরোধ করেন মন্ত্রী।

Read full story at source