চ্যাপটা শরীর রুপচাঁদাকে কী সুবিধা দেয়
· Prothom Alo

বাজারে ঢুকেই প্রথমে চোখ যায় বরফের ওপর সাজানো রুপচাঁদার দিকে। রুপালি, চ্যাপটা এক মাছ। কেউ যেন আকাশ থেকে চাঁদের একটি টুকরা কেটে এনে সাজিয়ে রেখেছে বরফের ওপর। নামটাও বোধ হয় সেখান থেকেই। প্রশ্ন হলো, এই চ্যাপটা গড়নটা কি স্রেফ চেহারার কারণে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কাজ আছে।
সমুদ্রে কোনোকিছুই এমনি এমনি হয় না। রুপচাঁদার শরীর একপাশ থেকে দেখলে প্রায় কাগজের মতো পাতলা লাগে। এই পাতলা গড়নই তাকে পানির ভেতর প্রায় গায়েব করে দেয়। ধরো, তুমি পানির নিচে সাঁতরাচ্ছ, ওপর থেকে একটা বড় মাছ তাকিয়ে আছে খাবারের খোঁজে। শরীর মোটা হলে ওপর থেকে স্পষ্ট দেখা যাবে, একটা পুরু ছায়া। কিন্তু শরীর পাতলা হলে তুমি হয়ে যাও প্রায় একটা রেখামাত্র, আলোর একটা চিকন ঝিলিক। রুপচাঁদার ওপরের দিকটা গাঢ়, নিচেরটা হালকা। বিজ্ঞানীরা একে বলেন কাউন্টারশেডিং। তার সঙ্গে চ্যাপটা শরীর যোগ হলে শিকারির চোখ তাকে খুঁজে পায় না সহজে।
Visit freshyourfeel.org for more information.
গতির কথায় আসি এবার। পানি বাতাসের চেয়ে অনেক ঘন। মোটা শরীর নিয়ে পানি ঠেলে এগোতে গেলে জোর লাগে বেশি, শক্তি খরচ হয় বেশি। চ্যাপটা শরীর সেই বাধাটা কমায়, বিশেষ করে মাছটা যখন পাশ ফিরে সাঁতরায়। রুপচাঁদা তাই সহজে বাঁক নেয়, ঝটপট দিক পাল্টায়। শিকারি এলে এক ঝটকায় সরে যায়, তারপর আরেক দিকে ছুট। এই ক্ষিপ্রতাই তাকে বারবার বাঁচায়।
পাঙাশ মাছ এত দ্রুত বড় হয় কীভাবেখাবার খোঁজার কাজেও এই গড়নের একটা ভূমিকা আছে। রুপচাঁদা সমুদ্রের মাঝামাঝি স্তরে থাকতে পছন্দ করে, প্ল্যাংকটন আর ছোট জলজ প্রাণী খুঁজে বেড়ায় সেখানে। চ্যাপটা শরীর নিয়ে পানির স্তরে স্তরে ওঠানামা করা সহজ হয়ে যায় তার জন্য, শক্তি বাঁচিয়ে চলা যায়।
রুপচাঁদা একা চলে না বেশির ভাগ সময়। দল বেঁধে সাঁতরায়। অনেকগুলো চ্যাপটা, রুপালি শরীর একসঙ্গে আলো প্রতিফলিত করতে করতে ঘোরে পানির মধ্যে। শিকারির চোখে তখন একটা গোলমাল তৈরি হয়, ঠিক কাকে ধরবে বুঝে উঠতে পারে না সে সহজে। এই চাকচিক্যটাও আসলে ওই চ্যাপটা, চকচকে শরীরের কারণেই সম্ভব হয়।
সব মাছ চ্যাপটা না অবশ্য, হওয়ার দরকারও নেই। গভীর জলে একা শিকার করা মাছের হয়তো লম্বাটে, শক্তপোক্ত শরীর দরকার। পাথরের ফাঁকে লুকিয়ে থাকা মাছের গড়ন আবার একদম আলাদা। রুপচাঁদার জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাস, চলাফেরার ধরন, সবকিছু মিলিয়ে তার শরীর এমন হয়েছে। হুট করে নয়। বহু বহু প্রজন্ম ধরে ধীরে ধীরে।
রেকর্ড দামে বিক্রি টি-রেক্সের জীবাশ্ম, বিজ্ঞানীদের আপত্তিবাংলাদেশের উপকূলে রুপচাঁদার কয়েকটা প্রজাতি পাওয়া যায়। সবচেয়ে পরিচিত সাদা রুপচাঁদা। রুপালি সাদা রঙের শরীর, ছোট মাথা, বড়সড় চোখ তার। প্রজাতিভেদে সামান্য পার্থক্য থাকলেও চ্যাপটা আকৃতির মূল নকশাটা প্রায় একই রকম থেকে গেছে বছরের পর বছর।
জেলেদের কাছে রুপচাঁদা ধরা সহজ কাজ নয়। জালে পড়লেও মাছটা যতক্ষণ পারে ছটফট করে। তার চ্যাপটা শরীর মাঝেমধ্যে জালের সরু ফাঁক গলে পালানোর একটা সুযোগও করে দেয়। যে গড়ন একে সমুদ্রে বাঁচায়, সেটাই জালের ভেতরেও এগুলোকে একটু বাড়তি সময় এনে দেয়।
পরেরবার বাজারে গিয়ে রুপচাঁদার দিকে তাকালে দামের কথা ভাবার আগে একবার শরীরের গড়নটা খেয়াল কোরো। পাতলা, চকচকে, প্রায় একটা মুদ্রার মতো চেহারা। ওর মধ্যেই লুকিয়ে আছে বহু বছরের একটা ধীর চেষ্টা, কীভাবে বাঁচা যায় সমুদ্রের ভেতর, কীভাবে চোখ এড়ানো যায়, কীভাবে শক্তি বাঁচানো যায়। বরফের ওপর নিরীহ মুখ করে পড়ে থাকা মাছটার শরীরে এইসব হিসাব-নিকাশ লেগেই আছে।
সূত্র: ফিশ ফার্মিং বিডি
চীনে বন্যার পানিতে ভেসে গেছে ৯০০ বিষধর সাপ