মুশফিক–নাজমুলদের ‘চওড়া’ ব্যাট কি ভুলে যাচ্ছেন

· Prothom Alo

অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশ টেস্ট সিরিজ নিয়ে কথাবার্তার বেশির ভাগজুড়েই এসেছে বোলারদের প্রসঙ্গ। এর পেছনে অবশ্য কারণও আছে। চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়া সফরে নেই নাহিদ রানা।

Visit bettingx.club for more information.

তাঁকে না পাওয়ার আফসোস থেকেই হয়তো বোলিং নিয়ে বেশি কথা হচ্ছে। প্রসঙ্গক্রমে এসেছে আরেক পেসার শরীফুল ইসলামের চোটও। তবে এই আক্ষেপ-আফসোসের ভিড়েও বাংলাদেশ দলের অস্ট্রেলিয়া সফরে সঙ্গী হয়েছে একটি ইতিবাচক বিষয়—ব্যাটসম্যানদের ফর্ম।

বলতে পারেন, সর্বশেষ টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই ব্যাটসম্যানরাই তো ডুবিয়েছেন। দুই ইনিংসে দল গুটিয়ে গেছে ১৪০ ও ১৮৫ রানে। হার ইনিংস ও ৮৫ রানে।

আর অস্ট্রেলিয়ায় তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচে? দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ অলআউট হয়েছে ৫৪ রানে।

নিকটতম অতীতের এসব পরিসংখ্যান স্বীকার করে নিয়েই স্মরণ করিয়ে দিতে হচ্ছে বেশ প্রচলিত একটি কথা, দুই-একটি টেস্ট দিয়ে ব্যাটসম্যানদের ফর্ম কেমন তা বিবেচনা করা যায় না।

পাল্টা প্রশ্ন হতে পারে, তাহলে কতটা সময় বিবেচনায় নেওয়া আদর্শ? চলতি বছরের শুরু থেকে? এ বছরে বাংলাদেশ দল টেস্ট খেলেছে মাত্র ৩টি। আসলে নির্দিষ্ট কোনো মাপকাঠিও নেই।

তবে ২০২৫ সাল থেকে বিবেচনা করা যায়। এই সময়ে বাংলাদেশ খেলেছে ৯ টেস্ট। অস্ট্রেলিয়া সফরে স্কোয়াডের তিনজন ব্যাটসম্যান এই ৯ টেস্টে খেলেছেন। এর মধ্যে এই ৯টি টেস্টে দুজনের ব্যাটিং গড় ৫০–এর বেশি। যাঁর গড়টা ৫০ ছোঁয়নি, তাঁরও প্রায় ৪৫।

টেস্ট তিন দিনেই শেষ হবে নাকি পাঁচ দিনে যাবে—কামিন্স বললেন, ‘কে জানে’

গড় ৫০ ছাড়ানো দুই ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন ও মুশফিকুর রহিম। ৯ টেস্টে ১৬ ইনিংসে নাজমুলের রান ৮১৩। ৫৪.২ গড়ে রান করা বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের এ সময়ে সেঞ্চুরি ৪টি, ফিফটি দুটি।

চার সেঞ্চুরির দুটি এসেছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, একটি করে আয়ারল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে। গত মে মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা নাজমুল দ্বিতীয় ইনিংসেও সেঞ্চুরি পেতে পারতেন, আউট হন ৮৭ রানে।

২০২৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৪টি সেঞ্চুরি করেছেন নাজমুল

মুশফিকের এ সময়ে সেঞ্চুরি নাজমুলের তুলনায় একটি কম—তিনটি। ফিফটি নাজমুলের সমান দুটি। মুশফিক শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেন। ১৬ ইনিংসে মুশফিক করেছেন ৭৯৯, গড় ৫৩.২৬।

৯ টেস্ট খেলা অন্য ব্যাটসম্যানটি মুমিনুল হক। ১৬ ইনিংসে তাঁর মোট রান ৭১৯। ৭ ফিফটি করা এই ব্যাটসম্যানের গড় ৪৪.৯৩। সর্বশেষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টেও প্রথম ইনিংসে ফিফটি করেন।

মুমিনুল এ ৭ ফিফটির মধ্যে তিনবারই ৮০ রানের বেশি করে আউট হয়েছেন। সর্বোচ্চ ইনিংস ৯১ রানের।

২২ বছর ধরে কেন ‘টেস্টলেস’ ডারউইন

এ সময়ে ৬ টেস্ট খেলেছেন বাংলাদেশের উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান লিটন দাস। দুটি সেঞ্চুরি ও তিনটি ফিফটি আছে লিটনের।

গড় বিবেচনায় লিটন বাকিদের চেয়ে এগিয়ে-৫৬.৮। ১০ ইনিংসে রানসংখ্যা ৫৬৮। সেঞ্চুরি দুটি পেয়েছেন পাকিস্তান ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে।

নাজমুল, মুশফিক, মুমিনুল ও লিটন—এরাই তো বাংলাদেশের মূল ব্যাটিংস্তম্ভ। অস্ট্রেলিয়া হোক কিংবা জিম্বাবুয়ে, টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে ফল আনতে এ চারজনকে একসঙ্গে অথবা কাউকে না কাউকে বড় ইনিংস খেলতেই হবে। আর সেটা করার মতো ছন্দেই আছেন তাঁরা।

ফিফটির পর মুমিনুল, গত ৯ টেস্টে মুমিনুল ফিফটি করেছেন ৭টি।

এই চারজন যদি মূল দায়িত্ব পালন করেন তাহলে ওপেনার সাদমান ইসলামকে তাঁদের সহকারীর কাজটা করতে হতে পারে। বাঁহাতি ওপেনার এ সময়ে ৮টি টেস্ট খেলেছেন। তাঁর গড়ও খারাপ নয়। ১৪ ইনিংসে ৩৭.৭৮ গড়ে সাদমানের রান ৫২৯। প্রশ্ন হলো, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাঁরা কি পারবেন?

জয়ের ভাবনা আপাতত তোলা থাক। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া প্রথম টেস্ট বাংলাদেশ দল কয় দিনে টেনে নিতে পারবে, সেই প্রশ্ন উঠছে। উত্তরটা নাজমুল-মুশফিকদের জানাই আছে। সময়মতো ‘পরীক্ষা’র বাইশ গজে উইলো নিয়ে তাঁরা উত্তরটা লিখে দিতে পারলেই হয়!

বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার একাদশে ‘বিগ থ্রি’

Read full story at source