চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ই যেন আমাদের প্রতিটি ভিডিওর জন্য আলাদা সেট বানিয়ে রাখে
· Prothom Alo
পড়াশোনা করতে করতেই অনেকে পেশাদার কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছেন। কারও কারও ভালো আয়ও হচ্ছে। কেউ আবার আয়ের দিকে না ঝুঁকলেও ক্যাম্পাস–জীবন থেকেই কনটেন্ট বানিয়ে হাত পাকাচ্ছেন, যেন পরে কাজে লাগে এই অভিজ্ঞতা। আদতে পড়ালেখার পাশাপাশি কনটেন্ট বানানোর অভিজ্ঞতা কেমন, আমরা জানতে চেয়েছিলাম কয়েকজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের কাছে। তৃতীয় পর্বে পড়ুন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিন ইয়ামিন–এর লেখা।
Visit solvita.blog for more information.
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ৫ বন্ধু মিলে তৈরি করেন নানা কনটেন্টচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাহাড় আর সবুজে ঘেরা বিশাল ক্যাম্পাস। এই ক্যাম্পাস থেকেই বিভিন্ন কনটেন্ট তৈরি করি আমরা পাঁচ বন্ধু—আমি, রেজোয়ান সরকার, রাজু ইসলাম, সীমান্ত দত্ত আর সাব্বির হোসেন।
বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষে পড়ছি। ক্লাস, অ্যাসাইনমেন্ট, টিউটোরিয়াল আর পরীক্ষা—পড়াশোনার একঘেয়েমি দূর করতেই শুরু করেছিলাম কনটেন্ট বানানোর রঙিন যাত্রা।
আমাদের বানানো ভিডিওগুলোর প্রাণ হলো ক্যাম্পাসজীবনের নানা মজার ঘটনা আর বন্ধুদের মধ্যকার খুনসুটি।
হলে থাকার গ্যাঁড়া, ক্যানটিনের আড্ডা, পরীক্ষার আগের রাতের হাহাকার কিংবা ক্লাসরুমের রসিকতার মতো বিষয় খুব সহজ-সরল ও হাস্যরসাত্মকভাবে আমরা ক্যামেরার সামনে তুলে ধরি।
আর এই কাজটায় আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তির জায়গা হলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অনন্য পরিবেশ।
চারপাশের ঘন সবুজ পাহাড়, ঝরনা আর বিশাল উন্মুক্ত প্রান্তর যেন আমাদের প্রতিটি ভিডিওর জন্য আলাদা সেট বানিয়ে রাখে।
অন্যান্য অনেক ক্রিয়েটর যেখানে ইনডোর বা কৃত্রিম সেটের ওপর নির্ভর করে, সেখানে গোটা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসটাই আমাদের ক্যানভাস।
কনটেন্ট তৈরি করলেও ভবিষ্যতের লক্ষ্য বিসিএসক্লাসের পড়ালেখা আর পরীক্ষার চাপ এতটাই বেড়ে গেছে যে অনেক সময় ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও নতুন ভিডিও বানানোর সময় বের করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। আমাদের আরেকটা বাস্তব চ্যালেঞ্জ হলো দূরত্ব।
আমরা চট্টগ্রামে থাকি বলে ঢাকার বড় বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান বা ব্র্যান্ডগুলোর থেকে একটু দূরেই পড়ে যাই। সরাসরি যোগাযোগ বা তাৎক্ষণিক মিটিংয়ের সুযোগ সেখানে কিছুটা কম।
ভিডিও বানিয়ে আমাদের আয়রোজগার যে বিশাল কিছু হয়, তা-ও নয়। তবে এই সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বেশ কিছু নামী ব্র্যান্ড ও টেলিকম কোম্পানির সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে।
এক সপ্তাহ আগে ঘটে গেল এক অভাবনীয় ঘটনা! আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে আমরা ১ মিলিয়ন (১০ লাখ) ফলোয়ারের মাইলফলক স্পর্শ করেছি।
স্রেফ ভালো লাগা আর আড্ডার ছলে শুরু হয়েছিল, তা আজ ১০ লাখ মানুষের ভালোবাসায় রূপ নিয়েছে।
ক্যাম্পাস থেকে হলে আসা-যাওয়ার পথেই ছোটখাটো কনটেন্ট বানিয়ে ফেলি