সহায়ক পরিবেশ তৈরির বিষয়ে দিল্লির জবাবের অপেক্ষায় ঢাকা
· Prothom Alo

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে আলোচনা অব্যাহত আছে। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ সফরের জন্য ‘সহায়ক পরিবেশ’ তৈরির বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থানের বিষয়ে দিল্লির স্পষ্ট জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে ঢাকা। জবাব পাওয়ার পর নিজেদের পরবর্তী অবস্থান ঠিক করবে বাংলাদেশ। ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্র গতকাল সোমবার প্রথম আলোকে এ তথ্য জানিয়েছে।
Visit biznow.biz for more information.
এদিকে গতকাল রাতে সরকারি একটি সূত্র এই প্রতিবেদককে জানিয়েছে, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলামের সঙ্গে আলোচনা করতে চান। বৈঠকটি আয়োজনের জন্য গতকাল বিকেলে ভারতীয় হাইকমিশন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ জানিয়েছে।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, শেখ হাসিনার বিষয়ে ভারতের স্পষ্ট অবস্থান জানতে চায় ঢাকা। কারণ, প্রধানমন্ত্রীর সফর আয়োজন এবং দুই দেশের সম্পর্ককে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিতে এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন পারস্পরিক আস্থা। আর দুই প্রতিবেশীর আস্থার সংকটের কেন্দ্রে রয়েছেন দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা।
বাংলাদেশের কূটনীতিকেরা মনে করেন, শেখ হাসিনার বিষয়ে ভারত তাদের অবস্থান স্পষ্ট করলে দুই দেশের আস্থার সংকট অনেকটাই কাটতে পারে। ৫ আগস্ট দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য মতবিনিময়ের ঘটনাটি যে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের আস্থার পথে নতুন বাধা তৈরি করেছে, গত দুই সপ্তাহে বাংলাদেশ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের মাধ্যমে তা স্পষ্ট করেছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যা বলা হয়েছে, সে বিষয়ে ভারতের উত্তরের অপেক্ষায় আছে বাংলাদেশ। তাদের উত্তরের পর এ নিয়ে কথাবার্তা হবে।
প্রধানমন্ত্রী কি ভারতে যাচ্ছেন—চ্যানেল ২৪-এর এক প্রশ্নের উত্তরে সালেহ শিবলী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছেন না, আমরা সেটা বলিনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে একটা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। আমরা বলেছি যে প্রধানমন্ত্রী দুটি বিষয় উপস্থাপন করেছেন। ভারতের হাইকমিশনার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, যিনি হাজারো মানুষকে হত্যা করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন, বাংলাদেশ তাঁর প্রত্যর্পণ চায়। সে ব্যাপারে অগ্রগতি কী। আরেকটি বিষয় হচ্ছে আন্দোলনের পরে, নির্বাচনের আগে একটি বিশেষ সময়ে শহীদ ওসমান হাদি হত্যার সঙ্গে অভিযুক্ত একজনকে ভারতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাংলাদেশ তাঁর প্রত্যর্পণ চায়।’
এগুলোর ওপর নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর সফরটা কত আগে হবে কিংবা কখন হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, ‘আমরা এ কথা বলছি না যে আমরা যাব না। আমরা এই রেসপন্সের জন্য ওয়েট করছি। রেসপন্স পেলে তো কথাবার্তা হবে। কথাবার্তা তো চলমান রয়েছেই।’
এদিকে দিল্লির কূটনৈতিক সূত্র বলছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত দ্বিপক্ষীয় সফরে আমন্ত্র্রণ জানিয়েছে। এখন বাংলাদেশের উত্তরের অপেক্ষায় আছে ভারত।
চলতি মাসে সফরটি হবে কি না, জানতে চাইলে ওই সূত্র আভাস দিয়েছে, সফরের ব্যাপারে বাংলাদেশের সম্মতি দেওয়াটা এখানে মুখ্য বিষয়। বাংলাদেশ রাজি হলে চলতি মাসে সফর আয়োজনের জন্য সময়টা কম হলেও সেটা একেবারে অসম্ভব নয়।
তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য কঠিন শর্ত দিয়েছে বাংলাদেশকাতার সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনার জন্য মঙ্গলবার ভোর রাতে তিন দিনের সফরে কাতারে যাচ্ছেন। এই সফরের সময় তিনি কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জসিম আল থানির সঙ্গে আলোচনা করবেন। এ ছাড়া দেশটির মন্ত্রিসভার একাধিক প্রতিনিধির সঙ্গে তাঁর আলোচনার কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানপররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে দোহা যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর, প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের জন্য অনুকূল পরিবেশ চায় ঢাকা: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়