‘ব্যাড টিচার’ সিনেমা দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন এই নায়িকা

· Prothom Alo

ক্যামেরন ডিয়াজ

একসময় মডেলিং করতেন, তারপর কোনো অভিনয়ের অভিজ্ঞতা ছাড়াই সিনেমায় নাম লিখিয়েছিলেন। প্রথম ছবিতেই নায়ক ছিলেন জিম ক্যারি। সেই ছবি ‘দ্য মাস্ক’ তাঁকে রাতারাতি পরিচিত দেয়। এরপর কমেডি, রোমান্টিক সিনেমা, অ্যাকশন কিংবা অ্যানিমেশন—সবখানেই নিজের জায়গা তৈরি করেছেন ক্যামেরন ডিয়াজ। আজ ৩০ আগস্ট তাঁর জন্মদিন।

১৯৭২ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোতে জন্ম নেওয়া অভিনেত্রী আজ ৫৪ বছরে পা দিলেন। তিন দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে পেয়েছেন চারটি গোল্ডেন গ্লোব মনোনয়ন, হয়েছেন হলিউডের অন্যতম পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেত্রীসহ নানা খেতাব জড়িয়ে আছে তাঁর নামের সঙ্গে।

Visit esporist.com for more information.

ক্যামেরন ডিয়াজ

শুরুটা মডেলিং দিয়ে
ক্যামেরন ডিয়াজের পরিবার ছিল খুব সাধারণ মধ্যবিত্ত। নিজের শৈশবের কথা বলতে গিয়ে তিনি বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাঁদের পরিবার খুব সচ্ছল ছিল না; অতিরিক্ত কিছু অর্থের জন্য পরিবারের সদস্যরা ক্যান সংগ্রহ করেও বিক্রি করতেন। তবে তাঁর ভাষায়, অসচ্ছলতা থাকলেও পরিবারটি ছিল আনন্দময় ও ভালোবাসায় ভরা। মাত্র ১৬ বছর বয়সে স্কুলে পড়ার সময় মডেলিংয়ে যুক্ত হন ডিয়াজ। এরপর ক্যালভিন ক্লেইন, কোকাকোলাসহ দামি ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনে কাজ করেন। তখনো অভিনয়ের কোনো প্রশিক্ষণ ছিল না। ২১ বছর বয়সে মডেলিং করতে করতেই তাঁর সামনে আসে অভিনয়ের সুযোগ।

অভিজ্ঞতা ছাড়াই সিনেমায়
শুরুতে অভিনয়ের ইচ্ছা ছিল না। পরে মডেলিংয়ে যুক্ত হয়ে অভিনয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন। কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই ১৯৯৪ সালে নাম লেখান ‘দ্য মাস্ক’ সিনেমায়। জিম ক্যারির বিপরীতে টিনা কার্লাইল চরিত্রে অভিনয় করেন ডিয়াজ। ছবিটি বক্স অফিসে বড় সাফল্য পায়। ক্যামেরন ডিয়াজও দর্শকের নজরে চলে আসেন। তবে এরপরই সহজ পথ পাননি তিনি। প্রথম কয়েক বছরে দ্য লাস্ট সাপার, ফিলিং মিনেসোটা, হেড অ্যাবাভ ওয়াটার-এর মতো তুলনামূলক ছোট ছবিতে কাজ করে অভিনয়ের দক্ষতা বাড়ান। মজার বিষয়, প্রথম সিনেমা থেকে প্রশংসা পাওয়ার পরে নিজেই অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য অভিনয়ের ক্লাস শুরু করেন তিনি।

‘দেয়ার্স সামথিং অ্যাবাউট মেরি’ সিনেমাটির পোস্টার

‘মেরি’ বদলে দিল সব
১৯৯৭ সালে ‘মাই বেস্ট ফ্রেন্ডস ওয়েডিং’-এ জুলিয়া রবার্টসের সঙ্গে অভিনয় করে আরও বড় দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছান। তবে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মোড় আসে ১৯৯৮ সালের ‘দেয়ার্স সামথিং অ্যাবাউট মেরি’ দিয়ে। ছবিটির সাফল্য তাঁকে হলিউডের শীর্ষ তারকাদের সারিতে নিয়ে যায় এবং প্রথম গোল্ডেন গ্লোব মনোনয়ন এনে দেয়। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। ‘বিং জন মালকোভিচ’, ‘ভ্যানিলা স্কাই’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে প্রমাণ করেন, তিনি শুধু কমেডি অভিনেত্রী নন। আবার ‘চার্লিস অ্যাঞ্জেলস’–এর মতো অ্যাকশন ছবিও তাঁকে বাণিজ্যিকভাবে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়। আর অ্যানিমেশন সিনেমার ইতিহাসে তাঁর অন্যতম জনপ্রিয় চরিত্র প্রিন্সেস ফিওনা-‘শ্রেক’ ফ্র্যাঞ্চাইজিতে যাঁকে কণ্ঠ দিয়েছেন ডিয়াজ।

পারিশ্রমিকে রেকর্ড
ক্যারিয়ারের শীর্ষ সময়ে ক্যামেরন ডিয়াজের পারিশ্রমিকও ছিল আলোচনার বিষয়। ‘দেয়ার্স সামথিং অ্যাবাউট মেরি’র জন্য তিনি পান প্রায় ২০ লাখ ডলার। ‘চার্লিস অ্যাঞ্জেলস’-এ তাঁর পারিশ্রমিক বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ডলার। এর পরের ছবি ‘চার্লিস অ্যাঞ্জেলস: ফুল থ্রটল’-এ পান প্রায় ২ কোটি ডলার। তবে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ‘ব্যাড টিচার’ সিনেমাকে ঘিরে। এই সিনেমার জন্য শুরুতে তুলনামূলক কম পারিশ্রমিক নিয়ে লাভের অংশ নিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে আয় দাঁড়িয়েছিল ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা তাঁকে আলোচনায় আনে। ২০১৩ সালে ৪০ বছরের বেশি বয়সী অভিনেত্রীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেত্রী হিসেবেও তাঁর নাম উঠে আসে।

সালমান শাহর মৃত্যুতে বদলে গেল ‘কে অপরাধী’র ইতিহাসক্যামেরন ডিয়াজ

হঠাৎ অভিনয়কে বিদায়
সবচেয়ে বিস্ময়কর অধ্যায় আসে ২০১৪ সালের পর। ‘অ্যানি’ ছিল দীর্ঘ সময়ের জন্য তাঁর শেষ সিনেমা। এরপর হলিউড থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। ২০১৮ সালে অবসর নেওয়ার কথা নিশ্চিত করেন। কেন এমন সিদ্ধান্ত? এই নিয়ে তিনি দ্য হলিউড রিপোর্টারে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, খ্যাতি ও ব্যস্ততার মধ্যে নিজের জীবন হারিয়ে ফেলছিলেন বলে মনে হয়েছিল তাঁর। ২০২০ সালে অভিনেত্রী গুইনেথ প্যালট্রোর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ডিয়াজ বলেছিলেন, ‘সিনেমা করতে গিয়ে আমি নিজের জীবনের অনেক অংশ অন্যদের হাতে তুলে দিয়েছিলাম। তাই নিজের জীবন আবার নিজের হাতে নেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করতে বিরতি নিয়েছি।’ পরে ফরচুনে দেওয়া এক অনুষ্ঠানে তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেছিলেন, ‘কেউ কী ভাবল, কার সাফল্য কত, কে কী প্রস্তাব দিল—কিছুই আমার সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেনি। আমি নিজের যত্ন নেওয়া এবং যে জীবন চেয়েছিলাম, সেটি গড়ে তোলাকেই অগ্রাধিকার দিয়েছি।’

বিরতিতে বিয়ে
ম্যাট ডিলনের সঙ্গে প্রেম নিয়ে ক্যারিয়ারের শুরুতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসেন। তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। পরে আলোচনায় আসেন ২০০৩ সালে জাস্টিন টিম্বারলেকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক প্রকাশ্যে এনে। চার বছর পর তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। আবার তিনি প্রেমে পড়েন। এবার বিরতিতে তিনি বিয়ে করেন প্রেমিক গুড শার্লট ব্যান্ডের সংগীতশিল্পী বেনজি ম্যাডেনকে। বিয়ের পর পরিবারে সময় দেন এবং ব্যবসায় মনোযোগী হন। এই সময় অভিনয় ক্যারিয়ার থেকে সরে যাওয়া নিয়ে আরও জানান, দীর্ঘ সময় মানসিকভাবে তিনি ভালো ছিলেন না। ডিয়াজের জীবনের অন্যতম কঠিন সময় ছিল তাঁর বাবা এমিলিও ডিয়াজের মৃত্যু। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৫ সালে ‘ব্যাক ইন অ্যাকশন ’ দিয়ে অভিনয়ে ফেরেন ডিয়াজ।

সূত্র: দ্য হলিউড রিপোর্টার ও ভ্যারাইটি অবলম্বনে

Read full story at source