হায়ার ডাইমেনশন এবং অতিপ্রাকৃত সত্তা

· Prothom Alo

হায়ার ডাইমেনশন! কখনো কি ভেবেছেন, ডাইমেনশন শুধু তিনটাই কেন হতে হবে; চতুর্থ, পঞ্চম বা আরও উচ্চতর মাত্রা কি সম্ভব নয়? ব্যাপারটা নিয়ে আগ্রহ কলেজ থেকেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে ওঠার পর জিনিসটা নিয়ে আরও গভীরভাবে ভাবা শুরু করলাম। আজকে বিভিন্ন অতিপ্রাকৃতিক সত্তাকে নিয়ে ডাইমেনশনাল ফিজিকসের অ্যাঙ্গেল থেকে কিছু ভাবনা শেয়ার করব।

Visit afrikasportnews.co.za for more information.

প্রথমে বুঝতে হবে মাত্রা কী। মাত্রা হলো মুক্তভাবে চলাচল করার সক্ষমতা। বিন্দুর মাত্রা শূন্য। এর মানে হচ্ছে, আপনি বিন্দু হলে আপনি এ মহাবিশ্বে কোনো দিকেই চলাচল করতে পারবেন না। রেখার একটামাত্র মাত্রা আছে, তা হলো দৈর্ঘ্য। ধরুন, আপনি একটা রেখা বরাবর চলমান আছেন; আপনার সামনে হুট করে একটা লোক এসে দাঁড়িয়ে গেল। আপনি কী করবেন তখন? পাশ কাটিয়ে যাবেন? কিন্তু রেখার তো পাশ নেই, আছে শুধু দৈর্ঘ্য। অর্থাৎ, আপনি যদি কোনো হাইপোথেটিক্যাল ওয়ান–ডাইমেনশনাল উইনিভার্সে হাঁটতে থাকেন, তাহলে আপনার সামনে আসা একটামাত্র বাঁধা আপনাকে আজীবনের জন্য বন্দী করে ফেলবে। অর্থাৎ, ওয়ান–ডাইমেনশনাল উইনিভার্সে আপনি কোনো সমাজ বানাতে পারবেন না। আপনি সেখানে একা, সম্পূর্ণ একা!

এখন আসুন আরও একটি মাত্রা যোগ করে হাইপোথেটিক্যাল ফ্লাটল্যান্ডে প্রবেশ করি। এখানে সব চ্যাপটা প্রাণী বসবাস করে, যাদের শরীরের কোনো পুরুত্ব নেই; এমনকি তাদের মস্তিষ্কে জন্ম থেকে উচ্চতা বা পুরুত্বের কোনো ধারণা নেই। এখানে সমাজ তৈরি করা সম্ভব। তবে ফ্লাটল্যান্ডের একটা বড় সমস্যা হচ্ছে, আপনি যদি সেখানকার কোনো প্রাণীকে একটা বৃত্তাকার বলয় দ্বারা আটকে দেন, তাহলে তার পক্ষে ওই বলয় ভাঙা ছাড়া সেখান থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়।

তবে আপনি কিন্তু খুব সহজেই বলয়টা ভাঙা ছাড়াই সেই চ্যাপটা প্রাণীকে বৃত্তাকার বলয় থেকে বের করে আনতে পারেন। কীভাবে বলুন তো? তাকে উচ্চতা বরাবর উঠিয়ে বলয় থেকে বের করে আনতে পারেন। কিন্তু যখন আপনি প্রাণীটাকে উচ্চতা বরাবর ওঠাবেন, তখন আর তার মস্তিষ্ক কাজ করবে না, সে বুঝতেও পারবে না যে তাকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আবার ধরুন, আপনি আপনার একটা আঙুলকে ফ্লাটল্যান্ড বরাবর ক্রমাগত ওপরে ওঠাচ্ছেন আর নিচে নামাচ্ছেন। ফ্লাটল্যান্ডে যেহেতু পুরুত্বের কোনো ধারণা নেই, তাই সেখানকার চ্যাপটা প্রাণীরা কখনোই আপনার পুরো আঙুল দেখতে পারবে না; বরং তারা দেখতে পাবে, একটা বৃত্তাকার প্রস্থচ্ছেদ বারবার দৃশ্যমান হচ্ছে, আবার কিছুক্ষণের মধ্যেই শূন্যে মিলিয়ে যাচ্ছে।

ট্রান্সহিউম্যানিজম: মানুষ কি নিজেকেই নতুন করে তৈরি করতে যাচ্ছে

এটুকু যদি ঠিকঠাক বুঝে থাকেন, তাহলে বাকিটা বুঝতে আশা করি খুব বেশি কষ্ট হবে না। জিন-ভূত নিয়ে শোনেননি, এমন লোক মনে হয় পৃথিবীতে পাওয়া যাবে না। এখন চিন্তা করে দেখুন, জিন যদি চার মাত্রার কোনো প্রাণী হয়, তাহলে ব্যাপারটা কেমন হয়? সে চাইলেই কিন্তু হুট করে আমাদের সামনে দৃশ্যমান হতে পারবে। অর্থাৎ, তার চতুর্মাত্রিক শরীরের ত্রিমাত্রিক একটা ক্রস সেকশন বা ছায়া আমরা দেখতে পাব। আবার সে চাইলেই ওই হইপোথেটিক্যাল চতুর্থ মাত্রা বরাবর উঠে গিয়ে ভোজবাজির মতো গায়েব হয়ে যেতে পারবে।

আবার গ্রামে অনেক সময় শোনা যায়, অমুক ব্যক্তিকে জিন নিয়ে গেছে, আর খুঁজে পাওয়া যায়নি, অথবা অনেক বছর পর খুঁজে পাওয়া গেছে। অথচ ওই ব্যক্তি মনে করতে পারে, এতগুলো বছর সে কোথায় ছিল। ব্যাপারটা অনেকটা দ্বিমাত্রিক কোনো প্রাণীকে উচ্চতা বরাবর ওঠানো বা ত্রিমাত্রিক দুনিয়ায় নিয়ে আসার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

আবার জিনরা সাধারণত দেয়াল বা দরজা ভেদ করে ঘরে প্রবেশ করতে পারে বলা হয়। ত্রিমাত্রিক কোনো প্রাণী যেমন চাইলেই উচ্চতা বরাবর উঠে কোনো দ্বিমাত্রিক বলয়কে ভাঙা ছাড়াই অতিক্রম করতে পারে, একইভাবে চতুর্মাত্রিক জিনরাও হয়তো সেই হইপোথেটিক্যাল চতুর্থ মাত্রা বরাবর উঠেই ত্রিমাত্রিক বাধা তথা দেয়াল বা দরজা অতিক্রম করতে পারে।

শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়

* মতামত লেখকের নিজস্ব

Read full story at source