দুই লাখ টাকা যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড
· Prothom Alo

যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় দুলাল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এই রায় দেন।
বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ)। তিনি জানান, রায়ে দুলালকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আসামির স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দেওয়ার জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা কালেক্টরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
Visit livefromquarantine.club for more information.
অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে শারমিনের সঙ্গে দুলাল হোসেনের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। বিয়ের পর থেকেই দুলাল হোসেন তাঁর কয়েকজন আত্মীয়ের পরামর্শে শারমিনের কাছে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করতেন। যৌতুকের জন্য তাঁকে প্রায়ই মারধর করা হতো।
মামলায় আরও বলা হয়, ২০১৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে আসামিরা যৌতুকের দাবিতে শারমিনকে মারধর করেন। পরে ওই দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দুলালের বসতঘরের ভেতর শারমিনের শরীরে কেরোসিন ঢেলে ম্যাচের কাঠি দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
মামলার সূত্রে জানা যায়, শারমিনের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আগুন নেভান। পরে তাঁকে প্রথমে ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। তাঁর শরীরের ৮৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। খবর পেয়ে শারমিনের মা ও মামলার বাদী মোমেলা বার্ন ইউনিটে গিয়ে মেয়েকে মুমূর্ষু অবস্থায় দেখতে পান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর রাত নয়টার দিকে শারমিন মারা যান।
এই মামলা তদন্তের দায়িত্ব পান কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এ কে এম সাইদুজ্জামান। তিনি বিভিন্ন আলামত জব্দ করেন। পাশাপাশি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় সাক্ষ্য দেন। তদন্ত কর্মকর্তার উপস্থিতিতে তৎকালীন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাওহীদ-আল-আজাদ শারমিনের মৃত্যুকালীন জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
এসআই মো. শফিয়ার রহমান শারমিনের লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। চিকিৎসক ডা. সোহেল মাহমুদ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন।
তদন্ত শেষে দুলাল হোসেনের সঙ্গে হারুন, মোর্শেনা, জরিনা, সুমাইয়া ও রাজুর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করে ২০১৭ সালের ৩১ জানুয়ারি ১৯ নম্বর অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়। বিচার চলার সময় আসামি জরিনা মারা যাওয়ায় তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
দণ্ডিত দুলাল হোসেনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। জামিনে থাকা আসামিদের ও তাঁদের জামিনদারদের জামিনের দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।