কক্সবাজার থেকে সাইকেলে এভারেস্টে গেলেন রাঙামাটির বীর কুমার

· Prothom Alo

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের জিরো পয়েন্ট থেকে সাইকেলে যাত্রা শুরু করেছিলেন বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা (৩০)। সেখান থেকে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর, ভারতের শিলিগুড়ি করিডর পার হয়ে তিনি পৌঁছান এভারেস্টের বেজ ক্যাম্পে। পুরো রাস্তা তিনি গিয়েছেন সাইকেলের প্যাডেল ঘুরিয়ে।

Visit sweetbonanza.qpon for more information.

গতকাল মঙ্গলবার বেলা দুইটার দিকে এভারেস্টের বেজ ক্যাম্পে পৌঁছান বীর কুমার। জায়গাটি সমুদ্রপৃষ্ট থেকে ৫ হাজার ৩৬৪ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত। চলতি বছরের ১৬ আগস্ট তিনি যাত্রা শুরু করেছিলেন। সে হিসাবে সাইকেলে করে বেজ ক্যাম্পে পৌঁছাতে তাঁর সময় লেগেছে ৩৭ দিন।

বীর কুমার রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নের কুক্যাছড়িপাড়ার বাসিন্দা। তিনি ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে স্নাতক অর্জন করেছেন। এর আগে তিনি সাইকেলে দেশের ৬৪ জেলা এবং ভারতের ১০টি রাজ্য ঘুরেছিলেন। এবারই তিনি প্রথম সাইকেলে করে কক্সবাজার থেকে নেপালে গেলেন।

বীর কুমারের দাবি, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে স্থলপথে সাইকেল চালিয়ে এভারেস্টের বেজ ক্যাম্পে পৌঁছানো প্রথম ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সাইক্লিস্ট তিনি। স্বেচ্ছায় রক্তদান, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু ন্যায্যতার দাবি নিয়েই বেজ ক্যাম্পে গেছেন।

জানতে চাইলে বীর কুমার প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল বেলা ২টা ১৫ মিনিটে তিনি এভারেস্টের বেজ ক্যাম্পে পৌঁছান। আজ বুধবার সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে ৫ হাজার ৫৫০ মিটার উচ্চতার কালা পাথরেও পৌঁছেছেন তিনি।

বাংলাদেশের পতাকা হাতে বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা

কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রায়হানুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘কাপ্তাই উপজেলার বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা সাইকেল চালিয়ে এভারেস্টের বেজ ক্যাম্পে পৌঁছেছেন। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সাইকেল চালিয়ে এভারেস্টের বেজ ক্যাম্পে পৌঁছানো প্রথম ব্যক্তি তিনি। আমরা তাঁর সফলতা কামনা করি।’

আরও যত যাত্রা

বীর কুমার জানান, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ১১ দিনে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত সাইকেল চালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। পরের বছর জুনে সাইকেলে ৪০ দিনে ঘুরে দেখেন দেশের ৬৪ জেলা। এরপর ২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৭১ দিনে ভারতের ১০টি রাজ্য সাইকেলে ঘুরেছেন তিনি। সেবার তাঁকে প্রায় ৫ হাজার ৭০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়েছিল।

বীর কুমার স্বেচ্ছায় রক্তদান, মানবিক সংগঠন কাপ্তাই ব্লাড ব্যাংক এবং পরিবেশ সংরক্ষণমূলক সংগঠন ওয়াগ্গা ভলান্টিয়ারের প্রতিষ্ঠাতা। এ দুই প্রতিষ্ঠানের বার্তা নিয়েই তিনি মূলত সাইকেল চালান।

জানতে চাইলে বীর কুমার বলেন, ‘কক্সবাজারের সমুদ্র থেকে নেপালের পাহাড়—এই যাত্রার প্রধান উদ্দেশ্য হলো প্রকৃতির রূপকে কাছ থেকে দেখা এবং বিশ্ববাসীকে পরিবেশ সংরক্ষণের আকুল বার্তা দেওয়া। প্লাস্টিক দূষণ বন্ধ করা, নিজের বর্জ্য নিজে অপসারণ করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করাই আমার কাজ। আমি চাই, আমার প্রতিটা প্যাডেলের সঙ্গে যেন মানবিক ও সামাজিক বার্তাগুলো ছড়িয়ে পড়ে।’

Read full story at source