প্রথমবারের মতো খুঁজে পাওয়া গেল সবুজ রঙের নক্ষত্র
· Prothom Alo

রাতের আকাশে তাকালে কত রঙের নক্ষত্রই না দেখা যায়! কোনোটি নীলচে, কোনোটি সাদা, আবার কোনোটি কমলা বা লালচে। কিন্তু সবুজ রঙের নক্ষত্রের কথা কখনো শোনা যায়নি। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এবার এমন একটি নক্ষত্রের সন্ধান পেয়েছেন, যা মানুষের চোখে দেখা গেলে সবুজ দেখাত। শ্বেত বামন নক্ষত্র নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে নক্ষত্রটির সন্ধান মিলেছে। এ নিয়ে একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে আরএএস টেকনিকস অ্যান্ড ইনস্ট্রুমেন্টস সাময়িকীতে। চলো, বিস্তারিত জানা যাক।
মৃত নক্ষত্রের অবশিষ্টাংশ
নক্ষত্রের রং সাধারণত এর তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। বেশির ভাগ নক্ষত্রকে কমলা, সাদা কিংবা নীল রঙের দেখায়। তবে শ্বেত বামন নক্ষত্রের ক্ষেত্রে বিষয়টি একটু আলাদা। শ্বেত বামন হলো সূর্যের মতো নক্ষত্রের জীবনের শেষ পর্যায়ের অবশিষ্টাংশ। জ্বালানি ফুরিয়ে গেলে এ ধরনের নক্ষত্রের বাইরের স্তর মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে। অবশিষ্ট অংশটি তখন অত্যন্ত ঘন একটি বস্তুতে পরিণত হয়। একে বলা হয় শ্বেত বামন।
Visit rouesnews.click for more information.
বিল গেটসের চোখে এই তিন পেশা এআই সহজে কেড়ে নিতে পারবে নাইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারউইকের জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী মার্ক হল্যান্ডস এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, অধিকাংশ শ্বেত বামন নক্ষত্রের রং সাধারণ নক্ষত্রের মতোই হয়। কিন্তু কিছু শ্বেত বামনের বাইরের স্তরে এমন অদ্ভুত ভৌত পরিস্থিতি তৈরি হয়, যার ফলে এগুলোর আলো ও রং অন্যদের চেয়ে আলাদা হয়ে যায়। এবার এমনই একটি শ্বেত বামনের সন্ধান পেয়েছেন গবেষকেরা, যা মানুষের চোখে সবুজ দেখাত।
নক্ষত্রের গায়ে গ্রহের ধ্বংসাবশেষ
শ্বেত বামন নক্ষত্রের রং কেন আলাদা হয়, তা বুঝতে হলে এর বায়ুমণ্ডলের দিকে তাকাতে হবে। নক্ষত্রের বায়ুমণ্ডলে থাকা হিলিয়ামের সঙ্গে অন্যান্য মৌলের মিথস্ক্রিয়ার কারণে আলোর বর্ণালিতে পরিবর্তন আসে। বর্ণালি হলো আলোকে বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যে ভাগ করলে যে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ রেখা বা বিন্যাস পাওয়া যায়। অনেকটা প্রিজমের মধ্য দিয়ে সূর্যের আলো ফেললে যেমন নানা রঙের দেখা মেলে, তেমনই নক্ষত্রের আলো বিশ্লেষণ করেও তার গঠন সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
শ্বেত বামনের আশপাশে থাকা গ্রহাণু কিংবা কোনো পুরোনো গ্রহব্যবস্থার ধ্বংসাবশেষ থেকেও এসব মৌল নক্ষত্রের বাইরের স্তরে জমা হতে পারে। যেমন: লোহা, ম্যাগনেশিয়াম ও সোডিয়ামের মতো মৌল পাথুরে গ্রহে পাওয়া যায়। কোনো গ্রহাণু শ্বেত বামনের খুব কাছে চলে এলে নক্ষত্রের মহাকর্ষীয় টানে সেটি টুকরা টুকরা হয়ে যেতে পারে। পরে সেই ধুলা ও পাথরের টুকরাগুলো নক্ষত্রটির ওপর এসে পড়ে এবং এর বাইরের স্তরের সঙ্গে মিশে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান ডিয়েগোর জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক অ্যাডাম বার্গাসারের মতে, এভাবে শ্বেত বামনকে কাজে লাগিয়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়া গ্রহের ভেতরে কী কী মৌল ছিল, তা জানা সম্ভব। গ্রহটির উপাদানগুলো কী অনুপাতে ছিল, তা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারেন, সেটি কীভাবে তৈরি হয়েছিল।
বিষয়টি অনেকটা অপরাধস্থলে পড়ে থাকা আলামত দেখে ঘটনার রহস্য উদ্ধারের মতো। গ্রহটি হয়তো বহু আগেই ধ্বংস হয়ে গেছে, কিন্তু এর ফেলে যাওয়া উপাদান থেকে বিজ্ঞানীরা অতীতের গল্পটি জোড়া লাগানোর চেষ্টা করতে পারেন।
অস্বাস্থ্যকর খাবারের স্বাদ স্বাস্থ্যকর খাবারের চেয়ে ভালো লাগে কেনশুধু সবুজ নয়, গোলাপি নক্ষত্রও আছে
গবেষণায় হল্যান্ডস পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৫ আলোকবর্ষের মধ্যে থাকা ১৫১টি পরিচিত শ্বেত বামন নক্ষত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। একটি আলোকবর্ষ হলো, আলো এক বছরে যতটা পথ অতিক্রম করে। ফলে ৬৫ আলোকবর্ষ দূরের কোনো বস্তু থেকে আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে প্রায় ৬৫ বছর সময় নেয়।
সবুজ দেখাতে পারে—এমন শ্বেত বামনটির বাইরের স্তরে ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম ও লিথিয়ামের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তবে গবেষকেরা শুধু সবুজ নক্ষত্রই খুঁজে পাননি; আরেকটি শ্বেত বামনের রং মানুষের চোখে প্রায় স্যামন মাছের মাংসের মতো গোলাপি দেখাত বলে জানিয়েছেন হল্যান্ডস। নক্ষত্রটিতে কার্বনের অণুর ঘনত্ব বেশি থাকায় এমন রং তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, এসব নক্ষত্রের রং বিজ্ঞানীরা সরাসরি চোখে দেখে নির্ধারণ করেননি। শ্বেত বামনগুলোকে পৃথিবী থেকে সরাসরি দেখা যায় না। গবেষকেরা নক্ষত্রগুলোর আলোর বর্ণালিসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে হিসাব করেছেন, সেগুলো যথেষ্ট কাছে থাকলে মানুষের চোখে কেমন দেখাত।
যুক্তরাষ্ট্রের পেন স্টেট স্ক্র্যান্টনের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক ও জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী অ্যাগনেস কিমের মতে, আলোর বর্ণালি বিশ্লেষণের ফলাফলকে মানুষের চোখে দেখা রঙের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা পদার্থবিজ্ঞান ও জীববিজ্ঞানের এক মজার সংযোগ। এতে মহাকাশের দূরবর্তী বস্তুগুলোকে আরও সহজে কল্পনা করা যায়।
এই হাতিটি মৃত শাবককে বয়ে বেড়ায় কেনআরও সবুজ নক্ষত্রের খোঁজ মিলবে
এই গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীরা আগে থেকেই সংগ্রহ করা তথ্য ব্যবহার করেছেন। তাই আবিষ্কারটি শ্বেত বামন সম্পর্কে একেবারে নতুন কোনো রহস্যের সমাধান করেছে—এমনটা বলা যাচ্ছে না। তবে নক্ষত্রের বর্ণালি থেকে তার সম্ভাব্য রং নির্ণয়ের এই পদ্ধতি ভবিষ্যতের গবেষণায় কাজে লাগতে পারে।
এখনো অনেক শ্বেত বামন নক্ষত্রের বর্ণালিসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়নি। নতুন নতুন পর্যবেক্ষণ ও উন্নত বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির সাহায্যে এবার আরও দূরের নক্ষত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে। হল্যান্ডসের আশা, আগামী দিনে শ্বেত বামন নক্ষত্রের বর্ণালিসংক্রান্ত তথ্যের সংখ্যা প্রায় ১০ গুণ বেড়ে যেতে পারে। তাতে সবুজ রঙের আরও অনেক শ্বেত বামনের সন্ধানও মিলতে পারে।
হল্যান্ডসের ধারণা, এখন পর্যন্ত পাওয়া একটি বা দুটি সবুজ শ্বেত বামনের সংখ্যা ভবিষ্যতে বেড়ে ১০ বা ২০–এ পৌঁছাতে পারে।
সূত্র: সিএনএন
সামিউল সোমবার স্কুলে যেতে চায়নি: এই শোক সইবার শক্তি আমাদের নেই