সিআইপি হতে কী লাগে, রপ্তানি পদক পেতে কত ডলার আয় করতে হবে, শর্ত কী কী
· Prothom Alo
সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য জাতীয় রপ্তানি ট্রফি (পদক) দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি ২০২৭ সালের জন্য বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (সিআইপি) নির্বাচনের ঘোষণাও সরকার দিয়েছে। রপ্তানি খাতে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দুটি হচ্ছে জাতীয় রপ্তানি পদক ও সিআইপি (রপ্তানি)।
Visit rhodia.club for more information.
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিষ্ঠান রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) পদক দেওয়া ও সিআইপি ঘোষণার জন্য অনলাইনে আবেদন আহ্বান করেছে। ১ আগস্ট আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে, চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে প্রজ্ঞাপন জারি করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের হাতে পদক তুলে দেওয়া হবে।
রপ্তানি পদক পেতে কত আয় করতে হবে
এবার ২৯টি পণ্য ও সেবা খাতে জাতীয় রপ্তানি পদক দেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে ইপিবি। তবে প্রতিটি খাতের জন্য নির্ধারিত ন্যূনতম রপ্তানি আয় অর্জন করতে হবে।
সবচেয়ে বেশি ন্যূনতম রপ্তানি আয়ের শর্ত রাখা হয়েছে তৈরি পোশাক খাতে। আবেদনের জন্য ওভেন পোশাক ও নিট পোশাকের জন্য কমপক্ষে ৭ কোটি মার্কিন ডলার আয় থাকতে হবে। এ ছাড়া হোম ও স্পেশালাইজড টেক্সটাইলের জন্য ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার, সুতা (ডেনিম ব্যতীত) ৩ কোটি ডলার, ম্যানমেড ফিলামেন্টস এবং স্ট্যাপল ফাইবার আড়াই কোটি, ডেনিম ফেব্রিকস ও ডেনিম তৈরি পোশাক, বেসিক কেমিকক্যালস, কাগজ ও কাগজের পণ্য ২ কোটি ডলার, টেক্সটাইল ফেব্রিকস দেড় কোটি ডলার আয় থাকতে হবে।
হিমায়িত খাদ্য, পাটজাত দ্রব্য, চামড়া (ক্রাস্ট বা ফিনিশড)—তিনটিতে আয় থাকতে হবে কমপক্ষে ১ কোটি ডলার। এ ছাড়া ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য, প্রিন্টিং ও প্যাকেজিং পণ্য এবং গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ পণ্য—এই তিন খাতে ৮০ লাখ ডলার; হালকা প্রকৌশল, ওষুধ পণ্য এবং ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি খাতে ৫০ লাখ ডলার; সিরামিক ও সব ফুটওয়্যার খাতে ৪০ লাখ ডলার; প্লাস্টিক ও মেলামাইন এবং আসবাবে ৩০ লাখ ডলার আয় থাকতেই হবে।
এদিকে চামড়াজাত পণ্য, কম্পিউটার সেবা এবং তামাক ছাড়া কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ পণ্যে ২০ লাখ ডলার আয় থাকতে হবে। আর কাঁকড়া, গরুর নাড়িভুঁড়ি ইত্যাদি অপ্রচলিত পণ্য, নারী উদ্যোক্তা ও তামাক ছাড়া কৃষিপণ্যে থাকতে হবে ১০ লাখ ডলার। আর হস্তশিল্পজাত পণ্য রপ্তানিতে দরকার ৫ লাখ ডলার রপ্তানি আয়।
সিআইপি হওয়ার খাতওয়ারি আয়
সিআইপি (রপ্তানি)-২০২৭ নির্বাচনের জন্যও অনলাইনে আবেদন আহ্বান করেছে ইপিবি। সিআইপি হওয়ার জন্য বাংলাদেশে নিবন্ধিত দেশি-বিদেশি রপ্তানিকারক ও রপ্তানিকারী প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তারা এবার পণ্য ও সেবা ৩৫টি খাতে আবেদন করতে পারবেন।
সবচেয়ে বেশি রপ্তানি আয়ের শর্ত রাখা হয়েছে তৈরি পোশাক (ওভেন) ও তৈরি পোশাক (নিটওয়্যার) খাতে। এ দুই খাতের জন্য ন্যূনতম রপ্তানি আয় ৭ কোটি মার্কিন ডলার। এরপর রয়েছে হোম টেক্সটাইল ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
সব ধরনের সুতা (ডেনিম ছাড়া) ও ম্যানমেড ফাইবার খাতে ৩ কোটি ডলার; ডেনিম ফেব্রিকস ও ডেনিম তৈরি পোশাক এবং জাহাজ ও সমুদ্রগামী ফিশিং ট্রলার—এই দুই খাতে ২ কোটি; টেক্সটাইল ফেব্রিকস দেড় কোটি; পাটজাত দ্রব্য, চামড়া (ক্রাস্ট বা ফিনিশড), হিমায়িত খাদ্য, জীবিত ও বরফায়িত মাছ—এই তিন খাতে ১ কোটি ডলার আয় থাকতে হবে। ৮০ লাখ ডলার আয় থাকতে হবে সব ধরনের ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক পণ্যে।
কাঁচা পাট, ওষুধ পণ্য ও স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রী, টেরিটাওয়েল, কনসালট্যান্সি ও মেইনটেন্যান্স, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি এবং ফ্রিলান্সিং, আউটসোর্সিং ইত্যাদি—এই ছয় খাতে রপ্তানি আয় থাকতে হবে ৫০ লাখ ডলার। চামড়াজাত পণ্য, সাইকেল ও মোটরযানের যন্ত্রাংশ, প্রিন্টিং ও প্যাকেজিং এবং গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ—এই চার খাতে আয় থাকতে হবে ৪০ লাখ ডলার।
আসবাবে ৩০ লাখ, বহুমুখী পাটজাত পণ্যে ও কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ২০ লাখ, ফুল ফলিয়েজ এবং সিরামিক ও মেলামাইন পণ্যে ১৫ লাখ এবং চা, কৃষিপণ্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, অ্যাকুমুলেটরস অ্যান্ড ব্যাটারি, হস্তশিল্পজাত ও কারুপণ্য, প্লাস্টিকজাত পণ্য, নারী উদ্যোক্তাদের রপ্তানি পণ্য ও সেবা, জুয়েলারি, খেলনা ও অন্যান্য পণ্য এবং সফটওয়্যার রপ্তানিতে আয় থাকতে হবে কমপক্ষে ১০ লাখ ডলার।
কী কী কাগজপত্র লাগবে
ইপিবি জানিয়েছে, রপ্তানি পদক পাওয়ার আবেদনের সঙ্গে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের কর পরিশোধের প্রত্যয়নপত্র, ঋণখেলাপি নন—এ মর্মে প্রতিষ্ঠানের ঘোষণাপত্র, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের হালনাগাদ সনদ, ব্যাংক প্রদত্ত প্রসিডস রিয়েলাইজেশন সার্টিফিকেট (পিআরসি), প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারকদের ক্ষেত্রে ই-পিআরসি, কারখানার কমপ্লায়েন্স সনদসহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে।
কোনো প্রতিষ্ঠান একাধিক পণ্য বা সেবা রপ্তানি করলে প্রতিটি খাতের জন্য আলাদা আবেদন করতে হবে। এক খাতের রপ্তানি আয় অন্য খাতের সঙ্গে যোগ করে দেখানো হলে আবেদন বাতিল হবে। আবেদনকারীর জমা দেওয়া পিআরসি বাংলাদেশ ব্যাংকের অনলাইন এক্সপোর্ট মনিটরিং সিস্টেমের (ওইএমএস) তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে। ওইএমএসে সংরক্ষিত তথ্যই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।
ইপিবি বলেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। সময়সীমা পেরিয়ে গেলে কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। একই সঙ্গে অসম্পূর্ণ আবেদনও বাতিল বলে গণ্য হবে।
সিআইপি হওয়ার আবেদনের সঙ্গে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আয়কর পরিশোধের সনদ, ভ্যাট পরিশোধের সনদ, ঋণখেলাপি নন এবং অর্থ পাচার মামলায় জড়িত নন—এ মর্মে ঘোষণাপত্র, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের সনদ, পিআরসি, প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারকদের ক্ষেত্রে ই-পিআরসি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। একই মালিকানাধীন গ্রুপের একাধিক প্রতিষ্ঠান একই খাতের পণ্য বা সেবা রপ্তানি করলে গ্রুপের পক্ষে শুধু একজন আবেদন করতে পারবেন।