পোকামাকড়ের চলার কৌশলে মিলছে মানুষের সমাধান
· Prothom Alo

পিঁপড়া, মৌমাছি, পঙ্গপাল, তেলাপোকা ও ফলের মাছির আচরণ থেকে মানুষের অনেক কিছু শেখার আছে। কীভাবে বিকল্প বাছাই করতে হয়, দলগত সিদ্ধান্ত নিতে হয় কিংবা নিজের অনুভূতি বুঝতে হয়—ক্ষুদ্র এসব প্রাণীর আচরণে মিলতে পারে তার উত্তর।
মানুষ নিজের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে গর্ব করতে পছন্দ করে। চিন্তাভাবনা করার ক্ষমতাকে বিবর্তনের পথে নিজেদের বড় অর্জন বলে মনে করি আমরা। কিন্তু অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ চিন্তা করেও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়াও আমাদের স্বাভাবিক প্রবণতা।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
অন্যদিকে ক্ষুদ্র বীজের মতো মস্তিষ্ক নিয়েও পোকামাকড় বেশ জটিল সমস্যার সমাধান করতে পারে। তাদের এই দক্ষতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বিজ্ঞানীরা এমন কিছু অ্যালগরিদম তৈরি করেছেন, যা পরিবহন, যোগাযোগ ও পণ্য সরবরাহের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
পিঁপড়াপোকামাকড়ের আচরণ থেকে ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাঁচটি শিক্ষা—
পিঁপড়ার কাছ থেকে শিখুন বিকল্প বাছাইয়ের কৌশল
অনেক বিকল্পের মধ্যে কোনটি বেছে নেবেন, তা নির্ধারণ করা সহজ নয়। বিশেষ করে সামনে যখন থাকে অসংখ্য সম্ভাবনা। মনোবিজ্ঞানে এ ধরনের পরিস্থিতিকে বলা হয় ‘চয়েস ওভারলোড’, অর্থাৎ অতিরিক্ত বিকল্পের কারণে সিদ্ধান্ত নিতে অসুবিধা।
খাবারের সন্ধানে নতুন জায়গা বেছে নেওয়ার সময় পিঁপড়ারাও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। তবে এ সমস্যা সমাধানে তাদের রয়েছে কার্যকর কৌশল।
প্রথমে কয়েকটি পিঁপড়া বাসা থেকে বেরিয়ে বিভিন্ন দিকে খাবারের সন্ধান করে। তারা নির্দিষ্ট কোনো পথ অনুসরণ না করে নানা সম্ভাবনা যাচাই করে। চলার পথে মাটিতে ফেরোমোন নামের একধরনের রাসায়নিক পদার্থের চিহ্ন রেখে যায়। অন্য পিঁপড়ারা এই গন্ধ অনুসরণ করে খাবারের সন্ধান পেতে পারে। তবে সময়ের সঙ্গে ফেরোমোনের গন্ধ কমে যায়।
যেসব পিঁপড়া তুলনামূলক কাছের ও ভালো খাবারের সন্ধান পায়, তারা দ্রুত বাসায় ফিরে আসে। ফলে তাদের রেখে যাওয়া গন্ধের চিহ্ন মুছে যাওয়ার আগেই অন্য পিঁপড়ারা সেই পথ অনুসরণ করতে পারে। এভাবে একই পথে পিঁপড়ার যাতায়াত বাড়লে ফেরোমোনের ঘনত্বও বাড়ে। পথটি অন্যদের কাছে আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে দীর্ঘ পথের গন্ধের চিহ্ন ধীরে ধীরে মুছে যায়। এভাবে পুরো দল শেষ পর্যন্ত খাবারের সবচেয়ে কার্যকর পথটি খুঁজে পায়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, কোনো একটি পিঁপড়াকে পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে হয় না।
বেলজিয়ামের ইউনিভার্সিটি অব ব্রাসেলসের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণাগারের সহপরিচালক মার্কো ডরিগো বলেন, ‘এ ব্যবস্থার মূল শিক্ষা হলো, কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও দলগতভাবে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। প্রতিটি পিঁপড়ার তথ্য ও সক্ষমতা সীমিত হলেও সম্মিলিতভাবে তারা জটিল সমস্যার সমাধান করতে পারে।’
পিঁপড়ার এই কৌশল থেকে তৈরি হয়েছে ‘অ্যান্ট কলোনি অপটিমাইজেশন’ নামের অ্যালগরিদম। রেলপথের পরিকল্পনা, টেলিযোগাযোগ, পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের মতো ক্ষেত্রে কার্যকর সমাধান খুঁজতে এটি ব্যবহৃত হয়। যোগাযোগ নেটওয়ার্কে তথ্য চলাচল আরও দক্ষ করার জন্য ডরিগো ‘অ্যান্টনেট’ নামের একটি ব্যবস্থাও তৈরি করেছেন।
মৌমাছিমৌমাছির কাছ থেকে শিখুন গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত
নতুন বাসা কোথায় তৈরি করা হবে, তা নির্ধারণ করতে মৌমাছিরাও পিঁপড়ার মতো বিভিন্ন জায়গা অনুসন্ধান করে। তবে তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতিতে রয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য।
কয়েকটি অনুসন্ধানী মৌমাছি বিভিন্ন দিকে উড়ে সম্ভাব্য বাসার জায়গা খুঁজে বের করে। এরপর পছন্দের জায়গা সম্পর্কে অন্য মৌমাছিদের জানাতে তারা বিশেষ একধরনের নাচ করে। এর নাম ‘ওয়াগল ড্যান্স’।
এ নাচের মাধ্যমে মৌমাছিরা শুধু জায়গাটির অবস্থানই জানায় না; জায়গাটি কত দূরে, কোন দিকে যেতে হবে, এমন তথ্যও প্রকাশ করে। পাশাপাশি সম্ভাব্য বাসার নিরাপত্তা ও উপযোগিতা সম্পর্কেও সংকেত দেয়। সাধারণত ভালো জায়গার পক্ষে মৌমাছির নাচ দীর্ঘস্থায়ী ও জোরালো হয়।
অন্য মৌমাছিরা সেই সংকেত অনুসরণ করে জায়গাটি যাচাই করতে যায়। ফিরে এসে তারাও নাচের মাধ্যমে নিজেদের পর্যবেক্ষণ জানায়। কেউ আগের পছন্দকে সমর্থন করে, কেউ আবার নতুন জায়গার প্রস্তাব দেয়।
এভাবে একই জায়গার পক্ষে পর্যাপ্তসংখ্যক মৌমাছির সমর্থন তৈরি হলে তারা একটি নির্দিষ্ট সীমা বা ‘কোরাম’ অর্জন করে। এরপর পুরো দল সেই জায়গায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
মানুষের গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সঙ্গে এ প্রক্রিয়ার কিছু মিল রয়েছে। এখানে কোনো একক সদস্যের ইচ্ছায় পুরো দল সিদ্ধান্ত নেয় না। বরং বিভিন্ন বিকল্প যাচাই ও সমর্থনের মধ্য দিয়ে একটি সম্মিলিত সিদ্ধান্ত তৈরি হয়।
মা–বাবাকে সময় দিতে মাইক্রোসফটের চাকরি ছাড়লেন যুবকদুটি নিম্ফের পাশে একটি প্রাপ্তবয়স্ক পঙ্গপালপঙ্গপালের কাছ থেকে শিখুন নিরপেক্ষ থাকার গুরুত্ব
কোনো বিষয়ে একবার শক্ত অবস্থান নিয়ে ফেললে মত বদলানো কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে একটি দল যখন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়, তখন আলোচনা সহজেই পক্ষে-বিপক্ষে তীব্র বিরোধে রূপ নিতে পারে। এতে প্রত্যেকে নিজের অবস্থানে আরও অনড় হয়ে যায়।
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব বাথের গাণিতিক জীববিজ্ঞানের অধ্যাপক ক্রিশ্চিয়ান (কিট) ইয়েটসের একটি গবেষণা এ পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার ভিন্ন পথ দেখায়।
পঙ্গপালের একেবারে অপরিণত পর্যায়ে থাকা যেসব পোকা তখনো উড়তে শেখেনি, তারা দলবদ্ধভাবে হেঁটে চলে। ইয়েটস এমন কিছু পঙ্গপালকে একটি গোলাকার স্থানে রেখে পর্যবেক্ষণ করেন, তারা সম্মিলিতভাবে কোন দিকে যাবে, তা কীভাবে নির্ধারণ করে।
ইয়েটস লক্ষ করেন, পঙ্গপালের দল কখনো একদিকে চলতে থাকে, আবার কিছুক্ষণ থেমে অন্যদিকে চলা শুরু করে। এই দিক পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে কিছু পঙ্গপালের সাময়িকভাবে চলা বন্ধ করে দেওয়া। অর্থাৎ দলের কিছু সদস্য যখন কোনো দিকেই সক্রিয় থাকে না, তখন পুরো দলের আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা সহজ হয়।
ইয়েটস একই ধরনের একটি পরীক্ষা ১৯ জন মানুষের ওপরও চালান। অংশগ্রহণকারীদের সামনে দুটি বিকল্প—এক্স ও ওয়াই রাখা হয়। চাইলে তাঁরা কোনো বিকল্প বেছে না নিয়ে নিরপেক্ষও থাকতে পারতেন।
দেখা যায়, নিরপেক্ষ থাকার সুযোগ থাকলে দল দ্রুত ও তুলনামূলক সহজে একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে। নিরপেক্ষ থাকার সুযোগ না থাকলে এ প্রক্রিয়া ততটা কার্যকর হয় না।
ইয়েটসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, একটি বড় দলের সদস্যরা যখন নিজেদের পছন্দের পক্ষে সক্রিয় থাকেন, তখন অনেক ছোট ছোট প্রভাব মিলেও দলের সামগ্রিক অবস্থান সহজে বদলাতে পারে না। কিন্তু কিছু সদস্য সাময়িকভাবে নিরপেক্ষ হয়ে গেলে সক্রিয় সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীর সংখ্যা কমে যায়। ফলে অল্প কয়েকজনের মত পরিবর্তনও পুরো দলের সিদ্ধান্তে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
পঙ্গপালের আচরণ থেকে ইয়েটসের উপলব্ধি হলো, নিরপেক্ষ থাকার সুযোগ সবাইকে নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে সাহায্য করতে পারে। কোনো প্রচলিত সিদ্ধান্ত বদলাতে চাইলে যারা এখনো নিশ্চিত নন, তাঁদেরও মতামত প্রকাশের সুযোগ দেওয়া জরুরি।
তেলাপোকাতেলাপোকার কাছ থেকে শিখুন ব্যক্তিত্বের বৈচিত্র্য
দলে অনেক দৃঢ় ব্যক্তিত্বের মানুষ থাকলে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হতে পারে। কেউ নিজের মতামত প্রতিষ্ঠা করতে এতটাই ব্যস্ত থাকেন যে অন্যদের কথা শোনার সুযোগ কমে যায়। তবে তেলাপোকা নিয়ে একটি গবেষণা দেখায়, ব্যক্তিত্বের পার্থক্য কখনো কখনো দলগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়াকে দ্রুত করতে পারে।
জাপানের টোকিও মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক আইজ্যাক প্লানাস-সিতজা তেলাপোকার দলবদ্ধ আচরণ নিয়ে কম্পিউটারভিত্তিক কয়েকটি মডেল তৈরি করেন। যেমন তেলাপোকারা কীভাবে একটি অন্ধকার কোণে একত্র হয়, যেখানে তারা নিরাপদে লুকিয়ে থাকতে পারে।
আইজ্যাক প্লানাস-সিতজা মডেলগুলোতে তেলাপোকার আচরণগত বৈচিত্র্য পরিবর্তন করেন। কোনো মডেলে সব তেলাপোকাকে একই ধরনের আচরণ করতে দেওয়া হয়, আবার কোনো মডেলে রাখা হয় কিছু কিংবা অনেক পার্থক্য।
ফলাফলে দেখা যায়, সব তেলাপোকার আচরণ একরকম হলে তাদের দলগত আচরণ বাস্তবে দেখা আচরণের সঙ্গে ভালোভাবে মেলে না। অন্যদিকে যেসব দলে আচরণগত বৈচিত্র্য বেশি, সেসব দল তুলনামূলক দ্রুত সম্মিলিত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। কারণ, তাদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগও বেশি হয়।
প্লানাস-সিতজা বলেন, ফলাফল দেখে তিনি অবাক হয়েছিলেন। তিনি কিছুটা প্রবণতা দেখতে পাবেন বলে আশা করেছিলেন, কিন্তু এত স্পষ্ট ও বারবার একই ধরনের ফল পাবেন, তা ভাবেননি।
তবে এর অর্থ এই নয় যে দলের সবাইকে খুব সাহসী কিংবা খুব ভীরু হতে হবে। সব সদস্য অতিরিক্ত ঘোরাফেরা করলে উপযুক্ত আশ্রয় বেছে নেওয়া কঠিন হয়। আবার অতিরিক্ত ভীরু সদস্যদের দল দ্রুত এক জায়গায় আশ্রয় নিলেও সেটি ভালো জায়গা না-ও হতে পারে।
প্লানাস-সিতজার মতে, সহযোগিতা ও আচরণগত বৈচিত্র্যের মধ্যে সঠিক ভারসাম্যই দলগত বুদ্ধিমত্তা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ছোট প্রাণীদের মধ্যে ব্যক্তিত্বের গুরুত্ব থাকলে আরও জটিল সামাজিক পরিবেশে বসবাসকারী প্রাণীদের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব থাকতে পারে।
সুতা নয়, মানুষের চুল দিয়ে তৈরি হয় শিল্পসফেদ বুনো ফুলটির ওপর এসে বসেছে মাছিফলের মাছির কাছ থেকে শিখুন নিজের অনুভূতি বুঝতে
সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কখনো আমরা আবেগকে উপেক্ষা করে শুধু যুক্তির ওপর নির্ভর করতে চাই। আবার কখনো নিজের অনুভূতিকেই এত বেশি গুরুত্ব দিই যে আগের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ হারাই।
ফলের মাছি বা ফ্রুট ফ্লাইয়ের আচরণ থেকে এ বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়া যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, ফলের মাছি বাইরের পরিবেশ থেকে পাওয়া তথ্য এবং নিজের অভ্যন্তরীণ অবস্থার মধ্যে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেয়। যেমন দুটি গন্ধের মধ্যে কোনটি বেছে নেবে, তা নির্ধারণের সময় গন্ধ দুটি যত বেশি কাছাকাছি ধরনের হয়, মাছি তত বেশি সময় নেয়। দেখে মনে হয়, যেন তারা বিকল্প দুটির সুবিধা-অসুবিধা হিসাব করছে।
খাবার বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রেও মাছি একাধিক বিষয় বিবেচনায় নেয়। একদিকে রয়েছে সুস্বাদু কিন্তু পুষ্টিহীন খাবার, অন্যদিকে তেতো স্বাদের কিন্তু পুষ্টিকর চিনিযুক্ত খাবার। মাছি এসব বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে কোন খাবার থেকে বেশি উপকার পাবে, তা নির্ধারণ করতে পারে। কখনো পুষ্টির জন্য তেতো স্বাদের খাবারও গ্রহণ করে।
ঝুঁকি বিবেচনার ক্ষেত্রেও তাদের আচরণে পার্থক্য দেখা যায়। কোনো খাবার পাওয়ার ক্ষেত্রে বিপদের আশঙ্কা থাকলে মাছি সাধারণত বড় পুরস্কারের চেয়ে ছোট কিন্তু তুলনামূলক নিরাপদ পুরস্কার বেছে নিতে পারে। তবে ক্ষুধা কিংবা মানসিক চাপের মতো অভ্যন্তরীণ অবস্থা তাদের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, গন্ধ ও পুরস্কারের মধ্যে ইতিবাচক বা নেতিবাচক সম্পর্কের অভিজ্ঞতা পাওয়ার পর সুস্থ মাছি অনেক সময় অস্পষ্ট সংকেতের মুখেও এগিয়ে যায়। কিন্তু মানসিক চাপে থাকা মাছি তুলনামূলকভাবে ঝুঁকি নিতে কম আগ্রহী হয়।
মানুষের ক্ষেত্রেও নিজের অনুভূতি, পূর্বাভিজ্ঞতা ও বর্তমান পরিস্থিতি সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে। কখনো এসব অভিজ্ঞতা আমাদের ভুল পথে পরিচালিত করে, আবার কখনো সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে সতর্ক করে দেয়।
চেরনোবিলের যে রাত বদলে দিয়েছিল পারমাণবিক ইতিহাসপোকামাকড়ের কাছ থেকে মানুষের শিক্ষা
পিঁপড়া, মৌমাছি, পঙ্গপাল, তেলাপোকা ও ফলের মাছির আচরণে পার্থক্য থাকলেও তাদের কাছ থেকে পাওয়া শিক্ষার একটি জায়গায় মিল রয়েছে। ভালো সিদ্ধান্ত নিতে সব সময় অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে চিন্তা করার প্রয়োজন হয় না। বরং সঠিক তথ্য সংগ্রহ, বিকল্প যাচাই, অন্যের মতামত শোনা, প্রয়োজনে নিরপেক্ষ থাকা এবং নিজের সীমাবদ্ধতা বোঝার মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া আরও কার্যকর হতে পারে।
ক্ষুদ্র মস্তিষ্কের পোকামাকড়ের আচরণ বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা এমন কিছু কৌশল খুঁজে পেয়েছেন, যা মানুষের জটিল সমস্যা সমাধানেও কাজে লাগছে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কখনো কখনো প্রকৃতির ছোট প্রাণীগুলোর কাছ থেকেও বড় শিক্ষা পাওয়া সম্ভব।
লেখা: সোফিয়া কোয়ালিয়া/বিবিসি